পাথরঘাটায় বন উজাড় করে বসতবাড়ি নির্মাণ, কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ

​​​​​​​পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:২৯ | প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:১৪

প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় বাসিন্দাদের ঢাল হিসেবে কাজ করে ম্যানগ্রোভ বাগান। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটায় সেই ম্যানগ্রোভ বাগান নির্বিচারে ধ্বংস করছে ভূমি ও বনদস্যুরা। বনের গাছ কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে বসতবাড়ি ও মাছের ঘের। এতে ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ। ভূমি ও বনদস্যুদের সঙ্গে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বন উজাড় হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।সরেজমিন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার হরিণঘাটা সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বন ঘুরে দেখা যায়, গাছ কেটে নতুন করে ১৫টি পরিবার গড়ে তুলেছে বসতবাড়ি। তৈরি করা হয়েছে মাছের ঘের ও কৃষি জমি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রভাবশালী ভূমি ও বনদস্যুরা বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব কাজ করছে।

এর আগে ২০১৩ সালে বনের ওই অংশের গাছ কেটে ৩৫টি পরিবার প্রায় ৯ একর জমি দখলে নিয়ে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। সেই সংখ্যাটি বেড়ে এখন শতাধিক হয়েছে। ওই সময় বন বিভাগের পক্ষ থেকে দখলদারদের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দিলেও আজ পর্যন্ত উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ সুযোগে পরিবারগুলো তাদের দখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

বন বিভাগের দাবি, জনবলের অভাবে সব সময় খোঁজখবর রাখা যায় না। দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা বনকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করে মিথ্যা মামলা দেন বলেও জানিয়েছে বন বিভাগ।

ওই একই গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম প্যাদা বলেন, এরা বেড়িবাঁধের পাশে থাকতো। এখন বনের গাছ কেটে জমির আয়তন বাড়াচ্ছে। আমরা বন বিভাগকে জানিয়েছি। তারা বলছে আমরা দেখতেছি।

পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল বলেন, যে বন আমাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে সেই বনের গাছ কেটে জমি দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করছে। অথচ বন বিভাগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই বনদস্যুদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে দখলদারদের থামানো যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বন বিভাগকে ম্যানেজ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাথরঘাটার হরিণঘাটা বিট কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তারা নিজেরা বাঁচার জন্য এবং আমাদের ফাঁসানোর জন্য এই কথাগুলো বলছে। তবে দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, নতুন করে বন বিভাগের যে জমি দখল করা হয়েছিল তা উদ্ধার করা হয়েছে এবং বন উজাড় করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর সঙ্গে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে বন বিভাগের সম্প্রসারণে নানা প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে বনটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার একরজুড়ে দৃষ্টিনন্দন এ বনে কেওড়া, গেওয়া, পশুর ও সুন্দরীগাছসহ ঝাউবন রয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এখানে ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বনায়ন করা হয়। এছাড়া সাগর তীরে লালদিয়ার চরে নতুন বন হওয়ায় বাগানের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। এটি এখন বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য।

(ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/প্রতিনিধি/পিএস)।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সারাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :