মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, চলছে তদবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৪ | প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০৩
নেটজাহ ইহুদা ব্যাটালিয়নের সদস্যদের উদ্দেশে উপদেশ দিচ্ছেন এক ইহুদি ধর্মগুরু, ফাইল ছবি

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে দায়িত্বরত ইসরায়েল সেনা বাহিনীর নেটজাহ ইহুদা ব্যাটালিয়নের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম দৈনিক হারেৎজ।

শীঘ্রই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে এমন আশাঙ্কায় ক্ষব্ধ নেতানিয়া হুসরকার।

দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে— মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত আইডিএফের নেটজাহ ইহুদা ব্যাটালিয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ, যা প্রথমবারের মতো মার্কিন সরকার আইডিএফ ইউনিটকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এ পদক্ষেপের খবর ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তাৎক্ষণিক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

হারেৎজ জানায় মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের পুলিশ ও অন্যান্য সামরিক ইউনিটের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে।

নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে ওই ইউনিটে মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থানান্তর নিষিদ্ধ হবে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণে বা মার্কিন অর্থায়নপ্রাপ্ত প্রোগ্রামগুলিতে সৈন্য ও অফিসারদের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করবে।

নেটজাহ ইহুদা ব্যাটালিয়নের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার খবর শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন-এর একটি বিবৃতিতে উঠে আসে। তিনি দাবি করেছেন ইসরায়েল বাহিনী আইন লঙ্ঘন করেছে, যা সামরিক সহায়তার বিধানকে নিষিদ্ধ করেছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীসহ বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা ইউনিটের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা যে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরুদ্ধে লবিং করছে।

নেটজাহ ইহুদা ব্যাটালিয়ন, কেফির ব্রিগেডের অংশ। মূলত ১৯৯৯ সালে চরমপন্থী বসতিসহ অতি-অর্থোডক্স এবং জাতীয় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিয়োগকারীদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে মিটমাট করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর এই ইউনিটকে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে মোতায়েন করা হয়। পরে পশ্চিম তীর থেকে উত্তর ইসরায়েলে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছিল এবং গাজাতেও মোতায়েন করা হয়।

ইউনিটের সৈন্যরা ৭৮ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ওমর আসাদের মৃত্যুর জন্য অভিযুক্ত। যিনি ২০২২ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইউনিটের সদস্যদের দ্বারা আটক হন। তাকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়। গলায় শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বিভাগ থেকে তদন্ত করা হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আইডিএফের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত নয়। আমাদের সেনারা সন্ত্রাসী দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আইডিএফের একটি ইউনিটের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উদ্ভট ও নিম্ন মানের নৈতিকতা। আমাদের নেতৃত্বে ইসরাইল সরকার এসব উদ্যোগের বিরুদ্ধে সব রকম ব্যবস্থা নেবে।’

ইসরাইলের উগ্রপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বেন গির বলেছেন, ‘আমাদের সেনাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলো একটি রেড লাইন। মার্কিন সরকারের এ উদ্যোগকে চরম গুরুতর। নেটজাহ ইয়েহুদার সব সদস্যকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। তিনি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তারা যেন মার্কিন এই অবস্থানের কাছে নতি স্বীকার না করেন।’

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তিনিও আইডিএফের ওই ইউনিটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। এক্সে লিখেছেন, ‘ইসরাইল যখন একটি লড়াইয়ের মধ্যে আছে তখন আইডিএফের ব্যাটালিয়নের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি এক পাগলামি। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসরাইলকে রাজি করাতে জোর প্রয়োগের একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

দেশটির সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী, আইডিএফের সাবেক চিফ অফ স্টাফ ও বর্তমান যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভার অন্যতম সদস্য বেনি গ্যান্টজ বলেন, ‘নেটজা ইহুদা ব্যাটালিয়ন ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি সামরিক আইনের অধীন এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখে কাজ করে। ইসরায়েল রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা রয়েছে যা আচরণবিধি থেকে লঙ্ঘন বা বিচ্যুতির যেকোনো দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করে এবং তা চালিয়ে যাবে।’

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, আইডিএফ-এর সামরিক তদন্ত ব্যবস্থা সৈন্যদের দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঠিক তদন্ত ও বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে একটি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রচারণার মধ্যে ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের রিপোর্ট করার পরিকল্পনাটি এসেছে যা প্রায় মাসিক ব্যক্তি এবং সংস্থাকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নতুন ঘোষণার খবর এসেছে।

শুক্রবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ পৃথকভাবে ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী এবং এনজিওগুলির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছে যারা বসতি স্থাপনকারী সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত এবং সেইসঙ্গে হাই প্রোফাইল ব্যক্তিদের, যার মধ্যে রয়েছে বেন্টজি গোপস্টেইন, যিনি ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ছিলেন।

হারেৎজ বলছে, বাইডেন প্রশাসন গাজার চেয়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি কর্মনীতির নিন্দা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। যেখানে ইসরায়েল ছয় মাসের সংঘাতে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যার কারণে উপকূলীয় উপত্যাকার জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৩৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।

সর্বশেষ ঘটনা, যা গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন শনিবার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে জোড়া বিমান হামলায় ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রথম হামলায় একজন ব্যক্তি, তার স্ত্রী এবং তাদের তিন বছর বয়সী শিশু নিহত হয়। গাজার কুয়েত হাসপাতাল সূত্র জানায়, মহিলাটি গর্ভবতী ছিলেন এবং চিকিৎসকরা ওই নারীর আরেক সন্তানকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন বলে হাসপাতাল জানিয়েছে।

হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, দ্বিতীয় হামলায় একই পরিবারের ১৩ জন শিশু ও দুই নারী নিহত হয়। এছাড়াও রাফাহ শহরে পৃথক বিমান হামলায় আগের রাতে ছয় শিশুসহ নয়জন নিহত হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/এসআইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :