পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল পাচ্ছে আইসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১০ মে ২০২৪, ১৪:০৭ | প্রকাশিত : ১০ মে ২০২৪, ১৩:৫৩

তারল্য সংকট দূর করতে এবং একটি প্রাণবন্ত পুঁজিবাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) তিন থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত একটি তহবিল পেতে যাচ্ছে। চার শতাংশ রেয়াত সুদে আইসিবিকে এই অর্থ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর অর্থ মন্ত্রণালয় এ ব্যবস্থায় গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একটি সূত্র।

জানা গেছে, নানা কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবি লোকসান গুনছে। লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানটিকে লাভে নিয়ে আসা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে এই তহবিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইসিবির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। আইসিবি গত এপ্রিল মাসে এ তহবিলের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করে। তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আইসিবির সক্ষমতা বাড়াতে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা তহবিল প্রদানে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঋণের বিপরীতে প্রতি ত্রৈমাসিকে ব্যাংকগুলোকে অন্তত ১০০ কোটি টাকা সুদ দিতে হচ্ছে আইসিবিকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা পেলে ব্যাংকগুলোর বড় ঋণের ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে। আর ৩ হাজার কোটি টাকা পেলে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করবে। ফলে ঋণের সুদের পরিমাণ কমবে।

এরফলে একদিকে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। অন্যদিকে সুদের পরিমাণ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। তহবিলের বাকি অর্ধেক বিনিয়োগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে। এতে বাজারের তারল্য সংকট দূর হবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজারে আকৃষ্ট হবে।

পরিকল্পনার বিষয়ে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সুবর্ণ বড়ুয়া সংবাদ মাধ্যমেকে বলেন, আমরা উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে দিন পার করছি। আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছি এবং আমরা তাদের সম্মতি পেয়েছি। এখন আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করব। আমরা সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।

এই টাকা পাওয়ার পর আইসিবির আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগ বাড়বে।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবুল হোসেন জানান, তারা সরকারের কাছে দুই ধরনের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। একটি হলো, সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে আইসিবিকে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল। সেক্ষেত্রে আইসিবি দুই শতাংশ হারে সুদ দেবে

অন্য প্রস্তাব হলো, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আইসিবিকে দেবে। এই তহবিলের সুদের হার হবে ৪ শতাংশ। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুবিধা দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই টাকা পাওয়ার পর, আমরা বড় ব্যাঙ্কের ঋণ পরিশোধ করব এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এমন ভাল স্টকগুলোতে বিনিয়োগ করব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, আইসিবির আবেদন এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পুঁজিবাজারে ১৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান, আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডের অতিরিক্ত সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। ৫ হাজার কোটি টাকার এই নতুন তহবিল পেলে পুঁজিবাজারে আইসিবির সরাসরি বিনিয়োগ দাঁড়াবে ২০ হাজার কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারে তহবিলের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান বলেন, ‘সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিলে তহবিলের একটি অংশ পুঁজিবাজারে আসবে এবং এটি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে আইসিবি যদি তার পোর্টফোলিওতে দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার সসঙ্গে ভালো স্টকগুলোতে বিনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যতই তহবিল সরবরাহ করা হোক না কেন, এটি বাজারের জন্য কোনো কাজে আসবে না।

(ঢাকাটাইমস/১০মে/এমআর/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :