যেসব লক্ষণে বুঝবেন গোপনেই বিকল হচ্ছে কিডনি! জানুন বাঁচার উপায়ও

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৩৪ | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৩১

মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ কিডনি। এই অঙ্গটি শরীরের যাবতীয় খারাপ পদার্থ শরীরের বাইরে বের করে দেয়। তবে এরপরও মানুষ এই অঙ্গ নিয়ে এতটাও ভাবতে চান না। সেই কারণে কিডনি রোগীর সংখ্যা এখন বাড়ছে।

কিডনি শুধু রক্ত পরিশোধনেই সাহায্য করে না, এর পাশাপাশি শরীরে তরল ও বিভিন্ন প্রকার লবণের ভারসাম্য, রক্ত উৎপাদনে সহায়তা এবং শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তাই শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি যথাযথভাবে কাজ করছে কি না কিংবা কিডনির স্বাভাবিক কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না তা জানার জন্য কিডনি সমস্যার বিভিন্ন লক্ষণের ওপর আমাদের নজর রাখা এবং সজাগ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

কিডনি বিভিন্ন কারণে সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ হলো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, নেফ্র্র্রাইটিস, দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, প্রস্রাবের নালিতে বাধার কারণে কিডনি রোগ হতে পারে। জন্মগত ত্রুটি এবং বংশগত কারণেও কিছু কিডনি রোগ হয়ে থাকে।

যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি বিকল হওয়ার পারিবারিক ইতিহাস থাকে, তাহলে প্রতি বছর কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। এছাড়াও শরীরের এমন কিছু লক্ষণ রয়েছে যা কিডনির স্বাস্থ্য কেমন রয়েছে, সে সম্পর্কে ইঙ্গিত দিতে পারে। যেমন-

চোখের ফোলা ভাব

পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি চোখের তলায় ফোলা ভাব না কমে, তা হলে বুঝতে হবে কিডনির কার্যকারিতায় কোনো সমস্যা হচ্ছে। রক্ত থেকে পুষ্টিকর পদার্থ ছেঁকে দূষিত পদার্থ বের করতে পারছে না কিডনি। ফলে রক্তের মধ্যে থাকা প্রোটিন মিশে যাচ্ছে মূত্রের মধ্যে। যার ফলস্বরূপ চোখের চারপাশে এই ধরনের ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে।

প্রস্রাবের বেগ

খুব বেশি পানি পান না করলেও বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা কিডনি বিকল হওয়ার একটি লক্ষণ হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ কখনো কখনো প্রস্টেটের সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়।

পা ফোলা

পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে অনেক সময় পায়ের পাতা ফুলে যায়। শরীরে ফ্লুইডের পরিমাণ যদি বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু কিডনি বিকল হলেই যে পায়ের পাতা ফুলে যেতে পারে, তা নয়। হার্টের সমস্যা থেকেও পা ফুলতে পারে।

খিদে না পাওয়া

কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে খাওয়ার ইচ্ছা চলে যেতে পারে। তবে পা ফোলার মতো এমন সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ না করলে শরীরে ‘টক্সিন’-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। যার ফলে খাওয়ার ইচ্ছা হ্রাস পেতে পারে।

বমি বমি ভাব

কিডনি বিকল হয়ে গেলে শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বা ক্ষতিকর পদার্থ মূত্রের সঙ্গে বেরোয় না। কিডনির সমস্যার ফলে শরীরেই সেই ক্ষতিকর পদার্থগুলো জমতে থাকে। তা থেকে বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

শুষ্ক ত্বক

কিডনি সুস্থ না থাকলে তার প্রভাব ফুটে ওঠে ত্বকে। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করার পাশাপাশি রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত কণিকা উৎপাদন করা, বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, হাড়ের স্বাস্থ্য— সবই নির্ভর করে কিডনির উপর। রক্তে বিভিন্ন উপাদান সঠিক মাত্রায় না থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে।

কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে হলে

কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে হলে যেকোনো ব্যক্তিকেই রক্তচাপ রাখতে হবে নিয়ন্ত্রণে। কেননা অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সুস্থ থাকতে হলে ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমায়।

বিশেষ করে খাওয়ার প্রতি সচেতন না থাকায় বিভিন্ন কারণে কিডনিতে জমছে টক্সিন। প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এই বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু খাবার অবশ্যই কিডনি ভালো রাখতে পারে। সেই খাবার রাখতে হবে পাতে।

তাজা যেকোনো ফল ভালো হতে পারে কিডনির জন্য। এই খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনির জন্য উপকারী। তবে কিডনির রোগ ইতোমধ্যেই থাকলে তখন সতর্ক হতে হবে। সেক্ষেত্রে লো পটাশিয়ামযুক্ত ফল খেতে হবে। এই তালিকায় আসবে আপেল, পেয়ারা, ন্যাশপাতি, জামরুল ইত্যাদি।

কিডনির রোগ থাকলে আপনাকে কম পটাশিয়ামযুক্ত সবজি যেমন ঝিঙে, পটল, চিচিঙ্গা খেতে হবে। এছাড়া খেতে পারেন মাঝারি পটাশিয়ামযুক্ত সবজি যেমন- আলু, ভেন্ডি, পেঁপে, গাজর, শসা, ধনেপাতা ইত্যাদি।

চিকিৎসকের মতে, কিডনি ভালো রাখতে গেলে প্রোটিন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে খেতে হবে মেদবিহীন মাংস। খেতে পারেন চিকেন। তবে এড়িয়ে যান কিছু বিশেষ খাবার যেমন- রেডমিট, খাসির মাংস ইত্যাদি। এভাবেই ভালো থাকতে পারবেন। নইলে সমস্যা বাড়বে।

কিডনি ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই পানি পান করতে হবে পরিমিত। এক্ষেত্রে দেখা গেছে, শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে কিন্তু কিডনিতে সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি পান করুন। তবে কিডনির রোগ থাকলে পানি পান করতে হবে মেপে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন।

ডাবের পানি কিডনি সুস্থ রাখে। ডাবের পানিতে রয়েছে ভালো পরিমাণে ইলেকট্রোলাইটস। এই ইলেকট্রোলাইটস কিডনির জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন। সপ্তাহে একবার বা দুইবার ডাবের পানি পান করতে পারেন। আবার চাইলে প্রতিদিনও পান করতে পারেন।

ধূমপান, অ্যালকোহল কিডনির অনেক ক্ষতি করে। তাই কিডনিকে সুস্থ রাখতে চাইলে ধূমপান, অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে। ধূমপান আমাদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত প্রবাহকে ধীর করে দেয়। রক্ত যখন কিডনিতে পৌঁছায়, তখন তাদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

কিডনির রোগ সহজে বোঝা যায় না। নীরব ঘাতকের মতো এটি কাজ করে। উপসর্গ বোঝার আগে কিডনির ৯০ শতাংশ খারাপ হয়ে যায়। তাই আগে থেকেই কিডনির ব্যাপারে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

(ঢাকাটাইমস/১৩জুন/এজে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :