শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা অপারেশনাল কর্মবিরতির ফলে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে বন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
কর্মসূচি সফল করতে সকাল থেকেই শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন্দর প্রশাসন। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন আর কারা দেননি, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব বিভাগীয় প্রধানকে।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো আইনি বাধা নেই—এমন রায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত তিন মাস ধরে বন্দর এলাকায় আন্দোলন চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই দাবিতে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত পুনরায় সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক দলের নেতারা। পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের এই কর্মসূচির প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে স্কপ। সংগঠনটি রোববার চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এই রায় অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া বা আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পরও এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। আন্দোলনকারী নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি চলছে এবং চলবে। দেশ রক্ষার স্বার্থেই আমরা এই আন্দোলনে নেমেছি।’
(ঢাকাটাইমস/৩১ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































