বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় ৭৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪০) নিহতের ঘটনায় ৭৩৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী মোছা. মার্জিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে ২৩৪ জনকে নামসহ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান।
জানা গেছে, মামলায় বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে শেরপুর জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় জেলা জামায়াতের উদ্যোগে তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা শহরের মাইসাহেবা মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসি গেটে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্যে জামায়াত নেতারা বলেন, শহীদ রেজাউলের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে আনতে হবে। এই বদলা নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তারা প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
প্রশাসনের উদ্দেশে তারা বলেন, রেজাউল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো কর্মসূচিতে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শেরপুর ছাড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
সমাবেশে শনিবার বিকালে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়ামে শহীদ রেজাউলের জন্য দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
উল্লেখ্য, বুধবার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ান। সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। পরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওইদিন রাতেই তিনি মারা যান।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































