বিভিন্ন অভিযোগে বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৮
অ- অ+

পরাজয় নিশ্চিত জেনে একটি দল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ষড়যন্ত্র করছে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। বিশৃঙ্খলা করার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল হাসান পলাশ।

বুধবার সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবে বগুড়া-৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

পলাশ বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, এই নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই শান্তিপ্রিয় বগুড়ার মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া-৭ আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি অবস্থান করছেন, যারা নিজেদের জামায়াত-শিবিরের কর্মী পরিচয় দিচ্ছেন। এসব ব্যক্তি মসজিদে অবস্থান করে নামাজের পর ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন, পবিত্র কোরআন শরীফ ছুঁয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন এবং খাদ্যসামগ্রী ও অর্থ সহায়তার প্রস্তাব দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ভোটার স্লিপ বিতরণের নামে সন্ধ্যার পর নারী কর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের নারিল্লা গ্রামে এমন একটি ঘটনায় একজনকে পুলিশ আটক করে পরে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। মাঝিড়া ইউনিয়নে অর্থের বিনিময়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টার সময় বাধা দিতে গিয়ে বিএনপির এক কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। বর্তমানে তিনি শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থীর প্রতিনিধিরা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষ থেকে নিয়মিত লিখিত অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার বেশিরভাগই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে প্রশাসন বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত সমস্যাগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পলাশ জানান, তারাও প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অন্তত তিনটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে শাজাহানপুরের কয়েকটি মসজিদে বহিরাগতদের রাত্রিযাপন নিয়ে খোর্দ্দপাড়া ইউনিয়নের মোস্তাইল গ্রামের উত্তরপাড়া মসজিদসহ নির্দিষ্ট স্থানের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া মৌখিকভাবে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগ প্রশাসন আমলে নেয়নি বলে জানান জেলা ছাত্রদলের নেতা।

পলাশ বলেন, কিছু এলাকায় দেশীয় অস্ত্র মজুদের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে এবং ভোটের দিন ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। অতীতের নিশিরাতের ভোট বা অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এবার নতুন করে টাকার খেলা চলছে, যার মাধ্যমে ভোট কেনাবেচার চেষ্টা হচ্ছে। দেশের অন্য জেলায় অর্থসহ আটকের ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরেন তারা।

তিনি দাবি করেছেন, তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা ছাড়া একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বগুড়ার সাতটি আসনেই শান্তিপূর্ণ ও ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।

(ঢাকা টাইমস/১১ফেব্রুয়ারি/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঈদুল আজহা যাত্রায় ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন
কানাডায় পরিবার, ঢাকায় একা জীবন: মিরপুরে মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, সভাপতি মুন্না, সম্পাদক নয়ন
বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা