হবিগঞ্জের ৪টি আসনেই বড় ব্যবধানে বিএনপির জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ
  প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২২
অ- অ+

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের ৪টি আসনেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বহুল কাঙ্খিত এ নির্বাচনে শান্তিুপূর্ণ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে বড় ব্যবধানে তারা বিজয়ী হন। জেলার সবকটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় দলীয় নেতা-কর্মীরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফলাফল পাওয়ার পর হবিগঞ্জ শহরসহ প্রতিটি আসনের কর্মী সমর্থকরা বিজয় মিছিল বের করেন। হবিগঞ্জে চলে আনন্দে আত্মহারা সমর্থকরা ডিজে পার্টি। প্রাথমিক ফলাফলে হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির ড. রেজা কিবরিয়া প্রায় ৫০ হাজারের হাজারের অধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোটের প্রাথী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন করেন। এর ফলে অনেকটা ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে জয় পান সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়া পুত্র খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। এ জয়ের পিছনে রেজা ও তার সমর্থকরা দিননাত পরিশ্রম করে সফল হন। নির্বানের কিছুদিন আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে আলোচনা কওে রেজা বিএনপিতে যোগ দেন। এরপরই তাকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান রেজা।

হবিগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জয়ী হয়েছে। প্রায় ৬১ হাজারের অধিক ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। বিএনপির চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন এলাকায় গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি নির্বাচন করে হারলেও এবার বিজয়ের হাসিটা হেসেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিগত নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণকারী খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল বাছিত আজাত। ২০১৮ সালে ড. সাখাওয়াত হাসান জীবনকে বাদ দিয়ে জোটের স্বার্থে আব্দুল বাছিত আজাদকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এর ফলে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল এ দুই নেতার মাধ্যমে এবার। এবার জীবন বিজয়ী হয়ে তার আশা পুর্ণ করলেন।

হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জিকে গউছ জয়ী হন। তিনি ৯৭ হাজারের অধিক বড় ভোটের ব্যবধানে সদরের এ আসনে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ। জিকে গউছ এর আগে তিনবার হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে শহরে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। জেলে থেকেও তিনি পৌরসভার নির্বাচনে বিজয়ী হন। যার জন্য সদও আসনে নির্বাচনে জিকে গউছ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। যার কারণে জামায়াত প্রার্থী তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন অনেকটা পিছিয়ে। জেলা শহরের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকার সুবাধে ভোটাররা এবারও বিশাল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল জয়ী হয়েছেন। তিনি প্রায় ৯৪ হাজারের অধিক ভোট বেশী পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। তার নিকটতম নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসলামী ফন্ট প্রার্থী আলোচিত ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। এ আসনেও বিএনপির প্রার্থী শিল্পপতি সৈয়দ ফয়সল দীর্ঘদিন থেকে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বিশেষ করে নিজস্ব চা বাগানসহ একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের সুবাদে এলাকার মানুষের সাথে তাদেও একটা বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়ে আসছে। আর এ থেকে তার একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংকও রয়েছে। যে কারণে বিশাল ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন।

জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের প্রাপ্ত কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত জেলার সবকটি আসনেই বিএনপী মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বড় ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নবীগঞ্জের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. রুহুল আমীন ও বাহুবলের সহকারী রিটার্নিং অফিসার লিটন চন্দ্র দে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। ৪ লাখ ৬১ হাজার ২৮৯ ভোটারের হবিগঞ্জ-১ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, রেজা কিবরিয়া নবীগঞ্জে ৭২ হাজার ৫৯৪ ও বাহুবলে ৩৮ হাজার ৪৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রিকশা প্রতীকে ৫৫ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ঘোড়া প্রতীকে ৩৪ হাজার ৪৬২ ভোট ও ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা চেয়ার প্রতীকে ৫ হাজার ২৪৪ ভোট এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কাজী তোফায়েল আহমেদ মোটরগাড়ি প্রতীকে ৬৩৯ ভোট পেয়েছেন। এখানে ভোট প্রদানের ৪৫.৮৯ শতাংশ।

হবিগঞ্জ-২ আসনে ১৫১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান ১ লাখ ২৫ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিস প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩১১ ভোট।

হবিগঞ্জ ৩ আসনে মোট কেন্দ্র ১৩৭। প্রাপ্ত কেন্দ্র ১৩৭ ফল অনুযায়ী ১৪১৫২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ্ব জি কে গউছ, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দাড়িপাল্লা প্রতিকের কাজী মহসিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৪৫৮১ ভোট। এখানে ভোট প্রদানের ৪৯.১৫ শতাংশ।

হবিগঞ্জ -৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে ১৮৩ কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৩টির প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল (ধানের শীষ) ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী গিয়াস উদ্দিন তাহেরী (মোমবাতি) পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৯৬ ভোট। এখানে ভোট প্রদানের ৫৩.৫ শতাংশ।

(ঢাকা টাইমস/১৩ ফেব্রুয়ারি/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার
ইসলামী ব্যাংক উদ্ধারে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত: জামায়াত আমির
জামিনে কারামুক্ত হলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী
মেট্রোরেল চলাচলের সময় আরও বাড়ছে
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা