রেকর্ড ভোটে জয়ী হারুনকে মন্ত্রী করার জোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৩| আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৬
অ- অ+

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ হারুন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. জামিল হিজাযী শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাসের মাঝে জোর দাবি উঠেছে তরুণ রাজনীতিবিদ হারুন অর রশিদকে মন্ত্রী করার। চায়ের দোকান, হাট-বাজার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পর্যন্ত আলোচনা চলছে এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে রেকর্ড গড়া এই নেতাকে ঘিরে।

তরুণ রাজনীতিবিদ হারুন-অর-রশিদ তৃণমূলের তুমুল জনপ্রিয় নেতা। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ শাসনামলে হারুন রাজপথে থেকে জেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত রেখেছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা-মামলা, জেল-জুলুম সবসময় পাশে থেকে তাদের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, গত ১৭ বছর জেলা বিএনপিসহ রাজবাড়ী-২ আসনের তিন উপজেলাকে নিজের সন্তানের মতন আগলে রেখেছেন হারুন। অনেক নির্যাতন, নিপিড়ীন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন তিনি। অত্যন্ত স্বচ্ছ ইমেজের পরীক্ষিত এ নেতাকে মন্ত্রী করা হলে যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন। এতে দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি।

হারুন অর রশিদের ব্যক্তিত্বের বিশেষ দিক হলো আন্তরিকতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সংযোগ। দল-মত নির্বিশেষে তার ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করে। কোনো অনুষ্ঠানে তিনি সাধারণত মঞ্চে বসেন না; বরং কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিচেই অবস্থান করেন। সিনিয়র নেতাদের মঞ্চে বসার ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজে কেবল বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চের পাশে যান। সবমিলিয়ে তার এই সাদাসিধে মনোভাব ও মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতাই তাকে প্রায় আড়াই লাখ ভোট পেতে সহায়তা করেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

রাজবাড়ী-২ আসনের অন্তর্গত তিন উপজেলার বিএনপির একাধিক নেতা হারুন সম্পর্কে বলেন, হারুন অর রশিদ একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। দলের দুর্দিনে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। তার নেতৃত্বে কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচিতে আমরা পালন করেছি। গত ১৭ বছর তিনি অভিভাবকের মতো আমাদের পাশে থেকেছেন। তিনি একজন অসাধারণ সংগঠক এবং দলের দুঃসময়ে সবসময় সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন।

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদল-যুবদলের নেতারা বলেন, হারুন ভাইয়ের আহ্বানে আমরা ঢাকায় অনুষ্ঠিত দলের সব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। তিনি রাজবাড়ী-২ আসনের একজন হ্যামিলিয়নের বাশিওয়ালা, দল-মত নির্বিশেষে সবাই তাকে পছন্দ করে। যার ফলশ্রুতিতে নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে সক্ষম হয়েছেন।

তারা আরও বলেন, আমরা দলের চেয়ারম্যান ও তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান এবং দলীয় নীতিনির্ধারকদের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। আমরা আশাবাদী, আসন্ন মন্ত্রীসভায় তারা পদ্মাপাড়ের তুমুল জনপ্রিয় নেতা হারুন ভাইকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবেন।

কালুখালী উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, হারুন ভাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার গ্রহণযোগ্যতা। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। সাধারণ মানুষ তাকে নিজেদের লোক মনে করে। তাকে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হলে সে জাতীয় পর্যায়েও নিজেকে প্রমাণ করার সুজোগ পাবে।

এছাড়া নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হারুনকে নিয়ে এই আসনের একাধিক তরুণদের সঙ্গে কথা বললে এই নেতার ওপর তাদের আস্থার কথা জানা যায়। তারা বলেন, আমরা তরুণ প্রজন্ম হারুন ভাইয়ের নেতৃত্বে আস্থা রেখেছি। তার সংগঠন দক্ষতা, সততা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা আশা করি, তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করলে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রবিবার
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যে পদ পেলেন রবিউল ইসলাম নয়ন
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা