জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ জন চাকরিপ্রার্থীর সবাই বাদ

তেঁতুলিয়া উপজেলা-র চারটি ইউনিয়নে শূন্য পদে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। পরে নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সকল প্রার্থীকে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে জাতীয় সংগীত লিখতে বলা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। ফলে কাউকেই উত্তীর্ণ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় বাছাই কমিটি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রাম পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞানের মান নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, মেধার ভিত্তিতে কঠোরভাবে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করায় নিয়োগ বোর্ডের প্রশংসাও করছেন অনেকে।
নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে প্রার্থীদের মেধা যাচাই করতে গিয়ে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা গেছে, কেউই আমাদের জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে এমন অজ্ঞতা আমাদের হতবাক করেছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































