ঝিনাইদহে যুবক নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ: বাসে আগুন, পাম্পে ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহ শহরে নিরব আহমেদ নামে এক যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঝিনাইদহে তেল পাম্পে কর্মচারীদের মারধরে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ৩টি বাসে আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। বাসে আগুন দেওয়ার প্রতিবিাদে প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন বাসের শ্রমিকরা।
আজ রবিবার(৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এ সড়ক অবরোধ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে আগুনে পোড়া বাস নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
অবরোধের কারণে বন্ধ হয়ে যায় ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের সকল প্রকার যানচলাচল। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। পরে বাসে আগুন দেওয়ার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে ২ ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা।
শুক্রবার (৭ মার্চ) রাতের ঘটনা সূত্রে শহরের আরাপপুর এলাকায় সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তবে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
নিহত নিরব আহমেদ কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পাশে ফাস্টফুড ব্যবসা করতেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
নিহতের খালাতো ভাই সোহেল হোসেন বলেন, “আমার ভাই সহজ-সরল ছিলেন। মোটরসাইকেলের তেল নিতে গিয়ে পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে তার সামান্য কথাকাটাকাটি হয়। কিন্তু কর্মীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।”
সৃজনী পেট্রোল পাম্পের ক্যাশিয়ার আলামিন শেখ জানিয়েছেন, “রাত প্রায় ১টার দিকে অজ্ঞাতনামা ২০–৩০ জনের একটি দল পাম্পে হামলা চালিয়ে তিনটি মেশিন নষ্ট করেছে। পুলিশ বাধা দিলেও হামলাকারীরা তা উপেক্ষা করেছে।”
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় ৩টার দিকে বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে জানানো হবে।
ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাফুজ হোসেন বলেন, “বাস টার্মিনালে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিহতের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে এবং পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ।
(ঢাকাটাইমস/৮ মার্চ/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































