জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

সারা দেশে বন্ধ শতাধিক পাম্প, চরম ভোগান্তিতে চালকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩২
অ- অ+

ঈদুল ফিতরের পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ না থাকায় বহু ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পঞ্চগড়ে ৪৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ

পঞ্চগড়-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৯৩ কিলোমিটারজুড়ে থাকা ৪৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রয়েছে। একই চিত্র কুড়িগ্রামেও—জেলার ২০টি স্টেশন সম্পূর্ণ তেলশূন্য হয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তেল না পেয়ে হাজার হাজার গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরছেন।

পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে যেসব পাম্প খোলা আছে, সেখানে তেল নিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কোথাও কোথাও উত্তেজনা, হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির আশায় তেল মজুত করছেন।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ প্রায় বন্ধ, আর ডিজেল মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। ফলে তেল দিতে না পেরে গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন পাম্প মালিকরা।

রাজশাহীতে অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ

রাজশাহীতে ৪৪টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বন্ধ রয়েছে। বাকিগুলোতেও তেলের তীব্র সংকট চলছে। পাম্প মালিক সমিতির নেতারা জানান, ঈদের আগেই মজুত শেষ হয়ে গেছে। ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

চট্টগ্রামেও সরবরাহ সংকট

চট্টগ্রামের অনেক পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। কোথাও ডিজেল নেই, কোথাও অকটেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করতে না পারায় ডিপো থেকে সরবরাহ কমে গেছে। ব্যাংক খোলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর ও খুলনায় অধিকাংশ বন্ধ পাম্প

ময়মনসিংহে ঈদের দিন থেকেই অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। বগুড়ায় ৭২টির মধ্যে অন্তত ৩৫টি পাম্প বন্ধ রয়েছে। রংপুরে ৪০টির মধ্যে প্রায় ২০টি এবং খুলনায় ৩৬টির সবগুলোই সংকটে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দিনে কয়েক ঘণ্টা পাম্প চালু রেখে সীমিত তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

বরিশালে দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ পাম্প

বরিশালে জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ পাম্প দিনে দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত তেল না থাকায় খোলা রাখলেও দ্রুত মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রশাসনিক তৎপরতা

তেল সংকটের কারণে অনেক জায়গায় পাম্পে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। কুড়িগ্রামে একটি পাম্পে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিছু এলাকায় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে এবং মজুত যাচাইয়ে অভিযান চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম জানান, পে-অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল উত্তোলন সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারছেন না, ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সংকট কাটবে না। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

(ঢাকাটাইমস/২৪ মার্চ/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০ পুশইন রুখে দিল বিজিবি
ডিএমপির ওসি রাহাৎ খানের বিরুদ্ধে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতির অভিযোগ!
ভারতের বিহারের হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪
নয়াদিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত, ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা