৭ বছর পর কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, অভিযুক্ত সাবেক এমপিসহ ১৫ জন

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম.এ. শামিম আরজুর মৃত্যুর ঘটনায় সাত বছর পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে এস. এম. ফুয়াদ শামীম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলী আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি আমলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে বিচারক এক মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত কোনো মামলা চলমান রয়েছে কি না, তা জানাতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
কুষ্টিয়া সদর আমলী আদালতের পেশকার সোহাগ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাত, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার সরকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান, সাবেক জেল সুপার জাকির হোসেন, তৎকালীন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, উপপরিদর্শক (এসআই) লিপন সরকার, কাজি মেহেদী হাসান, সোহেলী আক্তার, আবুল হাশেম, সাবেক কারারক্ষী লিমন হোসেন এবং তারেক নেহাল তপে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া ডিসি অফিস সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে সেখানে পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় শামীম আরজুসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আটক অবস্থায় নির্যাতনের কারণে শামীম আরজু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বাদী এস. এম. ফুয়াদ শামীম অভিযোগ করেন, কারাগারে তার বাবাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, সাবেক এমপির নির্দেশে পুলিশ তাকে আটক করে এবং অসুস্থতার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নুরুল কাদের বলেন, ভয়ের কারণে এতদিন মামলা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তারা বিচার প্রার্থনা করেছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, আদালতের কোনো নির্দেশনা এখনো তার হাতে পৌঁছায়নি।
(ঢাকাটাইমস/৯ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































