অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান, নারায়ণগঞ্জে বিজিবির অভিযানে বিপুল তেল জব্দ

ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সীমান্ত এলাকাসহ সারাদেশে অভিযানিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, অবৈধ মজুত, কালোবাজারি ও পাচার প্রতিরোধে বাহিনীটি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো কাজীপাড়া চৌরাস্তায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) ও র্যাব। অভিযানে রাজু ও খোরশেদ নামে দুই ব্যক্তির গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৯টি ব্যারেলে প্রায় ২ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাজার থেকে খোলা সয়াবিন তেল সংগ্রহ করে তা অবৈধভাবে মজুদ, বোতলজাত এবং ‘বন্ধন প্লাস’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ নামে ভুয়া স্টিকার ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবি জানায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৫ হাজার ৪২৫ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ১৩ হাজার ১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০ হাজার ৯২ লিটার—মোট ৪৩ হাজার ২৬৯ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করে বাহিনীটি। জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোজ্য তেল পাচার ও অবৈধ মজুত প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। নিয়মিত ও বিশেষ টহল বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন যানবাহন ও গুদামে তল্লাশি এবং নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতি তদারকিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী ৮ কিলোমিটারের বাইরেও এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
বিজিবি বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যাতে পাচারের কুফল সম্পর্কে মানুষ সচেতন হয় এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে।
সংস্থাটি জানায়, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিজিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় তাদের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































