জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার এশিয়া জিরো ইমিশন কমিউনিটি(এজেডইসি) প্লাস অনলাইন সামিটে এই সহায়তার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এই আন্তর্জাতিকব সম্মেলনে অংশ নেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, এই সামিটে প্রধানমন্ত্রী ভাষন দিয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতির মোকাবিলার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে সব দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। একা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না কোনো দেশ। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। বাংলাদেশ তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সংগ্রহ করতে চায় ২ বিলিয়ন ডলার তহবিল।
এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে কিছু স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘‘ ইতিমধ্যে আমরা কিছু স্বল্প মেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। এর মধ্যেআছে — সরকারি অফিস ও কেনাকাটার সময় কমানো, জরুরিভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি, বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।
‘এই সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও বড় আকার নিতে পারে, যা একসময় উন্নয়ন থামিয়ে দিয়েছিল’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকট হুমকির মুখে ফেলছে সেই অর্জন। শুধু বাংলাদেশ নয়, অনেক দেশই ঝুঁকির মুখে। এ সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
এরকম পরিস্থিতিতে এমন একটি সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি‘র সভাপতিত্বে সম্মেলনে ভারত, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তিমুর-লেস্তে, দক্ষিন কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ার সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এবং এডিবির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
জলাবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলা এবং এশীয় অঞ্চলে কার্বন নিঃসরন কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি প্লাস (এজেডইসি) অনলাইন সামিট অনুষ্ঠিত হয়।
ভার্চুয়ালি অংশ নেয়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
জেবি
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































