মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৬

বন্ধুত্ব থেকে শত্রুতা, মোহাম্মদপুরে ‘লম্বু আসাদুল’ হত্যার নেপথ্যের কারণ জানাল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০৮
অ- অ+

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজার এলাকায় চাঞ্চল্যকর আসাদুল ওরফে লম্বু আসাদুল হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িত মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন–মো মুন্না, আকতার হোসেন, মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন। এছাড়া একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরও দুই আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে র‍্যাব।

পুলিশ বলছে, নিহত আসাদুলের সঙ্গে একসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আকতারের। কিন্তু গত বছরের আকতারকে মেরে গুরুত্বর আহত করে আসাদুলকে। এ নিয়ে আকতারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই আকতার ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার ও হত্যার নেপথ্যের কারণ জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ডিসি মো. ইবনে মিজান। এসময় মোহাম্মদ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন ও মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বুধবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজারের সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় রিপনের ওয়ার্কশপের সামনে রাস্তায় ভিকটিম আসাদুল ওরফে লম্বু আসাদুলের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ধারালো চাকু এবং ইট দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন ভিকটিম। পরে পুলিশ আশেপাশের লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত আসাদুলের চাচাতো বোন অঞ্জু আক্তার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বলেন, ঘটনাটির পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় ও পরবর্তীতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মূলহোতা আকতারসহ এ ঘটনায় জড়িত ৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের হেফাজত হতে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

হত্যার নেপথ্যের যে কারণ জানাল পুলিশ

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম আসাদুল ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আসামি আকতার হোসেনকে গত বছরে নিহত আসাদুল মারধর করে গুরুতর আহত করে। সেই ঘটনায় মামলার পর আসাদুল গ্রেপ্তার হয়েছিলো। তবে গ্রেপ্তারের পরও আসাদুলের ওপর ক্ষোভ কমেনি আকতার হোসেনের। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যা করা হয় বলে আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। এছাড়া টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ থাকার তথ্যও জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুইটি মাদক মামলা রয়েছে। সংবাদ ডিসি ইবনে মিজান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮ এপ্রিল/এলএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পুলিশে শূন্য পদে আগে ২৮-২৯তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের পদায়ন জরুরি
আজ কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ৬ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
মিরপুর বিভাগে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ১১৯
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা