নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন দাবি

নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও যদি কাটছাঁট করা হয়, তা সরকারি কর্মচারীরা মেনে নেবেন না। বরং বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
সংগঠনটি বলেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সে হিসাবে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়লে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। এ ধরনের সুপারিশ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি করছে বলে দাবি করেছে তারা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে তুলনায় বর্তমান প্রস্তাবকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর পর বিভিন্ন আন্দোলন ও দাবির পর নবম পে স্কেল আসছে। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্যও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের পক্ষে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটির দাবি, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের আর্থিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল। তবে পরে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বেতন কাঠামোয় নতুন করে বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার প্রস্তাবও কমিয়ে দেয়, তাহলে নতুন বেতন কাঠামো ও বর্তমান দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তাঁদের মধ্যে অস্থিরতা ও হতাশা বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও বাড়ানোর জন্য সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































