ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫০ বছরের পুরনো বাসুদেব ইউনিয়নকে ভাঙার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি এলাকাবাসীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৯| আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫১
অ- অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১৫০ বছরের পুরনো বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন ইউনিয়ন করে তা তিতাসে নদীর ওপারে নেওয়ার উদ্যোগকে ব্যক্তিস্বার্থের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা। এই ইউনিয়নকে 'দ্বিখণ্ডিত' না করার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী কঠোর কর্মসূচি দিয়ে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে বাসুদেব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মলেনে লিখিত বক্তব্য পড়েন ইউনিয়ন বিএনপি' ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের অজান্তে এবং তাদেও মতামত উপেক্ষা করে ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন আরেকটি ইউনিয়ন গঠন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা আগে থেকেও কিছু জানতেন না।

একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে নানাভাবে চাপে রেখে বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে দিতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, এটিকে ঘিরে তারা নানা অপপ্রচারেও লিপ্ত রয়েছে। প্রশাসনও পক্ষপাতিত্ব করছে। মূলত ব্যক্তির রাজনেতিক অভিলাষ বাস্তবায়নে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন, বাসুদেব ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জেলা প্রশাসন বরিশল গ্রামে গিয়ে তদন্তকালে ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর ভাড়াটিয়া লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। জেলা প্রশাসনও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। বরিশল গ্রামের তদন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হলেও বাসুদেবে এসে করা তদন্ত নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

নতুন ইউনিয়ন গঠন করে সেটিকে তিতাস নদীর ওপারে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবেরও তীব্র সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাসুদেব ইউনিয়নের যেকোনো স্থান থেকে অল্প সময়েই জেলা সদরে যাতায়াত সম্ভব। উন্নত সদর উপজেলা ছেড়ে নদীর ওপারে কম উন্নত উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো যুক্তিই স্বাভাবিক নয়। এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষ চায় না ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন ভেঙে যাক।

বক্তারা বলেন, তারা জানতে পেরেছেন জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া প্রভাব বিস্তার করে প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে এলাকাবাসীর কোনো যোগসাজশ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী এই ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি জীবন দিয়ে হলেও দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি করেন তারা।

(ঢাকাটাইমস/২৭এপ্রিল/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নালিতাবাড়ীতে গলায় বাদাম আটকে ৩ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
আগামীকাল থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর
পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল বিদেশি মদ, বিয়ার ও সিগারেট জব্দ
ই-অরেঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা মাসুকুর রহমান গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা