হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ‘হাম’ রোগের সংক্রমণ। হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৯ জন। ফলে একদিনেই মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে মারা গেছে ৪০০ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৭৭ জন। সবমিলিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে তিনজন করে রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছে। জেলা হিসেবে ঢাকা ও মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি দু’জন করে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জনের।
বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৫৪৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ২৩০ জন এবং বরিশালে ১৪৭ জন শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত হাম শনাক্তের ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে ৫৪ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, নতুন করে আরও সহস্রাধিক শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত রোগীর পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। এতে দেশের সরকারি ও বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালগুলোতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তারা অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেছেন, শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া কিংবা লালচে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা, কারণ হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। এছাড়া পর্যাপ্ত তরল খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর তাগিদও দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































