গাজার যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিতে কায়রোতে আলোচনা শুরু

গাজায় বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ও বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মধ্যে কায়রোতে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক ফিলিস্তিনি সূত্র এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন এ আলোচনা শুরু হলো। রোববার শুরু হওয়া এ আলোচনা সোমবারও চলবে বলে কায়রো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নিয়েছে মিশর, কাতার ও তুরস্ক। পাশাপাশি বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিচ্ছেন।
ইসরাইল ও ফিলিস্তিনির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, সোমবার দুপুরের আগে মধ্যস্থতাকারীদের হামাস প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এরপর সব অংশগ্রহণকারী গোষ্ঠীকে নিয়ে বৃহত্তর বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, রোববারের আলোচনা মূলত ‘চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার প্রস্তাবিত রোডম্যাপ’ নিয়ে কেন্দ্রিভূত ছিল।
চ্যানেলটি জানায়, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।
সোমবার ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই এ আলোচনা হচ্ছে। এতে আরেকটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার আশাও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সেখানে প্রতিদিনই সহিংসতা চলছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত উপেক্ষা করে গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা বর্তমানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৯৩৬ জন নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ এ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
হামাস ও ইসরাইল উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাসের হাতে আটক থাকা সর্বশেষ ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে ইসরাইলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার কথা ছিল হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে। তবে কয়েক মাস ধরে সেই প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে।
যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, সেটিও দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনার অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে রয়েছে।
ইসরাইল গাজায় হামাসের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার বিরোধিতা করছে। একই সঙ্গে এ পর্যায়ে রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করছে।
অন্যদিকে হামাস বলছে, তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের একটি অংশ হস্তান্তরের বিষয় বিবেচনার আগে একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি এ বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































