এই প্রথম প্রকাশ্যে গণনা হজরত শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা, পাওয়া গেল চিঠিও

সিলেট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২২ জুন ২০২৬, ১৯:২২
অ- অ+

প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে গণনা হলো সিলেটের হজরত শাহজালাল (.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা। একই সঙ্গে পাওয়া গেল একটি চিঠি, যেটি লেখা হয়েছে সদ্য প্রত্যাহৃত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের উদ্দেশে। বেনামি চিঠিতে মাজারের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরে এর মূল হোতাকেও শনাক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজারের তিনটি ডেগ (দানবাক্স) খুলে টাকা গণনার সময় চিঠিটি পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনায় সম্পন্ন হয়েছে নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর মাত্র চার দিনে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ভক্ত দর্শনার্থীদের দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার নজির আগে ছিল না। এবার প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য গণনা করা হয়। সোমবার বেলা আড়াইটা থেকে ডেকচির ঢাকনা খুলে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। এ নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়।

সবচেয়ে বেশি কৌতূহল দানবাক্সে পাওয়া চিঠি নিয়ে। চিঠিতে শাহজালাল (রহ.) মাজারকেন্দ্রিক অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সদ্য প্রত্যাহৃত ডিসি মো. সারওয়ার আলমের উদ্দেশে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ডিসি সাহেব আসসালামু আলাইকুম। শাহজালাল মাজারের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটসহ সারা দেশে এমনকি বিদেশে অবস্থানরত লোকজন আপনার শুধু প্রশংসাই করছেন না। শতকরা ৯৫% মানুষ আপনার পক্ষেই আছেন।

চিঠিতে আরও লেখা হয়, ‘সবচেয়ে বড় লুটপাটকারী হচ্ছে দরগার কেরানি শামুন মাহমুদ খান। অর্ধেক টাকাই সে মেরে দেয়। সে কেরানি হয়েও বড়াই করে বলে সে নাকি খাদিম। সবই মিথ্যা। পড়াশোনা করেছে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। এখন লম্বা লম্বা কথা বলে। দরগার জায়গায় বাড়ি করেছে, দোকান পাঠ করেছে। সমস্ত জায়গা উদ্ধার করা একান্ত প্রয়োজন। দয়া করে দেখবেন, তাকে নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে সেই মূল হোতা।

২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে বিপুল আলোচিত একজন কর্মকর্তা। সম্প্রতি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ভক্তদের দানের টাকার জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার জন্য সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা দানবাক্স স্থাপন করেন। এ ঘটনা বিপুলভাবে প্রশংসিত হয় মানুষের কাছে।

কিন্তু রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, মাজারের দানের টাকা নয়-ছয় অব্যাহত রাখতে প্রভাবশালীদের তৎপরতার ফল ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার।

তবে তাকে প্রত্যাহারের এক দিনের মাথায় মাজারের ডেকচির টাকা প্রকাশ্যে গণনার ঘটনা সবার মাঝে কৌতূহল ছড়িয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) দায়িত্ব পালনকালে শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন সারওয়ার আলম। প্রভাশালীদের চাপে পরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

২০২০ সালের নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান।

২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২১ আগস্ট তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

(ঢাকাটাইমস/২২জুন/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশে নিবন্ধিত গণমাধ্যম ১,৯৬৯টি: তথ্যমন্ত্রী
লখনৌয়ে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৩
মালয়েশিয়ায় নৌভ্রমণে জুবাইদা রহমান, আনোয়ারের সহধর্মিণীর সঙ্গে মতবিনিময়
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা