খুলনায় নিজের মেয়েকে হত্যার অভিযোগ: ৩৬ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। নিজ মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।
আজ শনিবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা সোনাডাঙ্গা এলাকার বসুপাড়া বাঁশতলার বাসিন্দা আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক ছেলের সঙ্গে নির্জনার সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে উত্তেজনা ও কলহের সৃষ্টি হয়েছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে নির্জনা ও তার মা আরিফা ইয়াসমীন সীমার মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা মেয়েকে মারধর করেন। পরে পাশের কক্ষ থেকে বাবা আলীম হোসেন আকাশ একটি কাঠের বাতা এনে আঘাত করলে তা নির্জনার মাথায় লাগে। এতে গুরুতর আহত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড আড়াল করার উদ্দেশ্যে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি গলিতে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া মা আরিফা ইয়াসমীন সীমা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, তার স্বামী কাঠের বাতা দিয়ে শরীরে আঘাত করতে চেয়েছিলেন। তবে সেটি দুর্ঘটনাবশত নির্জনার মাথায় লেগে যায়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বাবা ও মাকে আসামি করে মামলা করেছে। মা আরিফা ইয়াসমীন সীমাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত বাবা আলীম হোসেন আকাশ এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাতে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় আরফানা হোসেন নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
(ঢাকাটাইমস/১১ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































