যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের কাছে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাইলেন ট্রাম্প

যুদ্ধ ও সংঘর্ষে ক্ষয়ক্ষতির জন্য এবার ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি তোলার পর পাল্টা এ দাবি জানালেন তিনি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সংঘর্ষে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ইরানকে ‘মোটা অঙ্কের’ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শুধু মার্কিন সেনাসদস্য নয়, নিহত সাধারণ নাগরিকদের পরিবারকেও এর আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের হামলায় নিহত বা গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি ইরানের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেন তিনি। লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজায় ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে, সেগুলোর জন্যও তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ ছাড়া ইরানের কুদস ফোর্সের প্রয়াত কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানির নেতৃত্বে পরিচালিত হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। ২০০০ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস কোল-এ হামলায় নিহতদের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ইরানে গত কয়েক দশকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, গত ৫০ বছরে ইরানে শত শত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের পরিবারেরও ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।
ট্রাম্প আরও বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের ইরান সরকারের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করাকে ‘আকর্ষণীয় প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইরান আগে এ বিষয়ে কথা না বললেও তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি পাল্টা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সামনে এনেছেন।
এদিকে ট্রাম্পের নতুন দাবিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের কথিত ‘অবৈধ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করতে হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট একটি নৌপথ বা করিডোর চালুর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। ফলে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল—এই তিন ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরানের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী।
(ঢাকাটাইমস/১১ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































