সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় তিনজন আটক

সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নাম এক বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার ২ নম্বর নরসিংপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (গত ১৪ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে উপজেলার ২নং নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের ওই বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পর নিহতের নাতনি মোছাঃ আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
অভিযোগের পর পুলিশ তদন্তে নামলে হত্যার রহস্য উন্মুচিত হয়। পুত্রবধূকে জমি জমা লিখে না দেয়ায় ভাড়াটে খুনি দ্বারা শ্বশুরকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূসহ তিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নিহতের পুত্রবধূ ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী হোসনা বেগম (৩৮)। ভাড়াটে খুনি এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) ও মৃত আব্দুল কুদ্দুসের পুত্র নজরুল ইসলাম (২০)।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। তবে তাঁর জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়াকে লিখে না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কোন্দল তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হোসনা বেগম ও ইসমাইল মিয়া সুপরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হোসনা বেগম তাঁর দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন।
চুক্তিমতো ঘটনার রাতে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী নিজ ঘরে ঘুমাতে গেলে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টেনে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে সটকে পড়ে
পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে হোসনা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালান এবং তড়িঘড়ি করে দাফনের আয়োজন করেন। কিন্তু নিহতের মুখে রক্ত ও গলায় স্পষ্ট কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশে খবর দেন।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পর হোসনা বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করারপর চুক্তির মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/১৬আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































