মৃত্যুর গুঞ্জনের মধ্যেই ইমরানকে হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ আদালতের

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে টানা কয়েক মাস করা আবেদনের শুনানি শেষে ৩ সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এই ঐতিহাসিক আদেশ দেন।
ইমরান খানের আইনজীবী উজাইর ভান্ডারী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুচিকিৎসা তদারকিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই বোর্ডে তার বোন ড. উজমা খান এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. ফয়সাল সুলতান যুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে ইমরানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা এবং বিদেশে থাকা তার ছেলেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে অন্তত ওই সময় পর্যন্ত তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন থাকবেন। ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হয়ে কারারুদ্ধ হওয়ার পর এবারই প্রথম এত দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাপ্রাঙ্গণের বাইরে অবস্থান করবেন ইমরান খান।
এর আগে শুনানি চলাকালে আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের রক্তচাপ ওঠানামা এবং স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপের তথ্য উল্লেখ করে একটি চিকিৎসা প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে সরকারের অবস্থানে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত। বিচারক প্যানেল উল্লেখ করেন, ইমরান খানের পালস ও হৃদযন্ত্রের অবস্থা স্বাভাবিক নয়, যা তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকিতে ফেলছে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পিটিআই-এর জ্যেষ্ঠ নেতা জুলফি বুখারী আল জাজিরাকে বলেন, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা যে বিশেষায়িত চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না—সর্বোচ্চ আদালতের এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হলো। পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও এবং প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ ইমরানকে পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়ার দাবি করে আসলেও শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই পিটিআই তাদের দীর্ঘদিনের দাবি আদায় করল।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































