এমপির ছেলের বিরুদ্ধে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ, এসপির কাছে লিখিত অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাকসুদ হোসেনের স্ত্রী নার্গিস আক্তার।
গত ১ অক্টোবর বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের চিড়াইপাড়া এলাকায় মাকসুদ হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বালুর গদিতে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। একই দিন লাঙ্গলবন্দ বাজারে মাকসুদ হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় দখল করে সেখানে সংসদ সদস্য আবুল কালামের ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন নার্গিস আক্তার।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কাউসার আশা। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেছেন, তার কাছে মামলা করতে কেউ আসেনি।
পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে নার্গিস আক্তার উল্লেখ করেন, লাঙ্গলবন্দ মৌজায় তার বাবা মৃত কাজী গিয়াসউদ্দিন ও ভাশুর মৃত আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন প্রায় ১৫০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মেসার্স বাবুল প্লাস্টিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বাবুল ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন। জমির দখল বজায় রাখতে তার ভাশুরের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বন্দর সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেছেন, যার নম্বর ১০৬/২৬। আদালত ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নার্গিস আক্তারের দাবি, তার ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ গত পাঁচ বছর ধরে ওই জমিতে ব্যবসায়িক কার্যালয়, বালুর গদি ও জিম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে গত তিন মাস ধরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, আবুল কাউসার আশা, বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটনসহ কয়েকজন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১১০ জন ব্যক্তি শুভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বালুর গদিতে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক, তত্ত্বাবধায়ক ও ভেকুচালককে মারধর করে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কার্যালয় ও বালুর গদিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ক্যাশে থাকা বালু বিক্রির ১ লাখ ২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, সিসিটিভি ক্যামেরা, আসবাব, ল্যাপটপ, দরজা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ভেকু সরিয়ে নিয়ে কার্যালয় ও বালুর গদির প্রবেশপথে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নার্গিস আক্তারের অভিযোগ, একই দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবুল কাউসার আশার নির্দেশে কয়েকজন লাঙ্গলবন্দ বাজারে তার স্বামীর ব্যক্তিগত কার্যালয় দখল করেন। সেখানে মাকসুদ হোসেনের ব্যানার সরিয়ে আবুল কালামের ব্যানার টাঙানো হয়।
অভিযোগ অস্বীকার এমপির ছেলের
এর আগে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কাউসার আশা বলেছিলেন, তারা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে লাঙ্গলবন্দে গিয়েছিলেন। পরে সেখানে কী ঘটেছে, তা তার জানা নেই।
মাকসুদ হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভর অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিরোধের কারণেও তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ বা থানায় মামলা করতে আসেনি।’
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের কাছে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













