আ.লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী

জাবেদের গুলশানের ফ্ল্যাটে মিলল শত শত কোট–টাই ও বিলাসবহুল সামগ্রী

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:২১| আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৪
অ- অ+

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে সেখানে থাকা মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রথম দিনের কার্যক্রমে শত শত কোট ও টাই, রোলেক্স ঘড়ির বক্স, বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার গহনা, ঝাড়বাতিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীর তথ্য পাওয়া গেছে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কের দুটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন দুদকের কর্মকর্তারা। অভিযানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি তৈরি করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রথম দিনের অভিযানে দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। সোমবারও ইনভেন্টরির কাজ চলবে। পরে সব মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গুলশান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দুর্নীতির আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন বিভিন্ন সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। তবে অনেক মূল্যবান মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে দুদক।

অভিযানের সময় একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের রোলেক্স সেলিনি (মডেল-৫০৫১৯)। এটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের হ্যারডস ডিপার্টমেন্ট স্টোর থেকে কেনা হয়েছিল। ওয়ারেন্টি কার্ডে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত ঘড়ির বর্তমান মূল্য ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। নতুন বা অব্যবহৃত অবস্থায় এর দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ লাখ টাকার সমান।

দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্বের নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ এবং ৩০টি মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তাঁর নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবে সরকার: ভূমিমন্ত্রী
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরের ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মুছে ফেলা তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা