নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায়, আবার বাড়ানোর তোড়জোড়

গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগে থেকেই নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি হারে ভাড়া নিচ্ছে রাজধানীর বাস ও অটোরিকশাগুলো। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর এখন আবার তা বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
ভাড়া নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।
নতুন করে পরিবহন ভাড়া বাড়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ রাজধানীর বাসিন্দা কল্যাণ বড়ুয়া। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘ভাড়া আর কত বাড়াবে সরকার? এমনিতেই তো নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করে পরিবহন মালিকরা। সেই হিসাবে গ্যাসের দাম বাড়ার পরও ভাড়া আসলে কমানো উচিত।’ এই খাতে সরকারের শৃঙ্খলা আনার দিকে নজর দেয়ার তাগিদ দেন তিনি।
নতুন দাম কার্যকরের আগে প্রতি ঘনফুট রূপান্তরিক প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি হতো ৩৫ টাকা হারে। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩৮ টাকা। অর্থাৎ যেসব পরিবহন গ্যাসে চলে তাদের জ্বালানির খরচ বেড়েছে সাড়ে আট শতাংশ।
রাজধানীতে যেসব গণপরিবহন চলে তার একটি বড় অংশই চলে গ্যাসে। তেলচালিত এবং গ্যাসচালিত বাস এবং অটোরিকশা কী হারে ভাড়া নেবে সেটি আইনে আলাদা করে নির্দিষ্ট আছে। তেলচালিত যানবাহনের তুলনায় গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়া কিছুটা বেশি।
অবশ্য রাজধানীতে এই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বেশি আদায় করে নানা অজুহাতে। কোথাও সিটিং-এর নামে, কোথাও ডাইরেক্ট-এর নামে নেয়া হয় দ্বিগুণ, কখনো কখনো তার চেয়ে বেশি ভাড়া। সিএনজিচালিত অটোরিকশাও মিটারের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করে। এ নিয়ে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ নানা সময় আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
প্রতিবার জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়ায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তবে গ্যাসের নতুন দাম কার্যকরের তিন দিন আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, এবার গ্যাসের দাম বাড়লে বাসভাড়া নাও বাড়তে পারে।
গত দুই দিন নগরীর বিভিন্ন সড়কে যাত্রী ও চালকদের জিজ্ঞেস করে জানা গেছে, বাস ও অটোরিকশায় ভাড়া নেয়া হচ্ছে আগের হারেই। প্রতিটি রুটেই অবশ্য ভাড়া নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি।
গুলিস্তান থেকে টঙ্গী রুটের বিআরটিসি বাসের ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা। সেই ভাড়া এখনো তাই নেয়া হচ্ছে।
বিহঙ্গ পরিবহনে শাহবাগ থেকে মিরপুর দুয়ারীপাড়ার ভাড়া ছিল ২০ টাকা। বুধ ও বৃহস্পতিবারও একই হারে ভাড়া নিচ্ছিলেন পরিবহন শ্রমিকরা।
এই প্রতিটি রুটেই অবশ্য বিআরটিএর নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি হারে ভাড়া আদায় করেন পরিবহন শ্রমিকরা। সরকার বড় বাসের ক্ষেত্রে সর্বনি¤œ ভাড়া সাত টাকা এবং ছোট বাসে পাঁচ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও কিছু লোকাল বাস ছাড়া কেউই এই হারে ভাড়া নেয় না। কোনো কোনো বাসে সর্বনি¤œ ভাড়া ২০ থেকে ৩০ টাকাও আদায় করা হয়।
অটোরিকশার ক্ষেত্রেও ভাড়ায় নৈরাজ্য পুরনো অভিযোগ। মিটারে চলবে এই অঙ্গীকার করার পর কয়েক মাস আগে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ নির্ধারণ করে সরকার। এরপর কিছুদিন মিটারে চলার পর আবার আগের অজুহাত ‘পোষায় না’ জানিয়ে চুক্তিতে যাত্রীদের যেতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে চালকদের বিরুদ্ধে। চাপাচাপি করলে মাঝেমধ্যে মিটারে যেতে রাজি হলেও চালকরা ২০ বা ৩০ টাকা বাড়িয়ে দেয়ার আবদার তোলেন এবং সেটা দিতেই হয়।
মগবাজার মোড় থেকে মিরপুর-১০ যাওয়ার কথা জানালে এক অটোরিকশা চালক চাইলেন ৩০০ টাকা। তিনি জানালেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগেও একই টাকা চাইতেন তিনি। চুক্তি কেন? মিটারে যাবেন না? জানতে চাইলে ওই চালক জানান, তিনি চুক্তিতে যেতেই আগ্রহী।
ইস্কাটনের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে দাঁড়ানো অটোরিকশার চালক বায়েজিদ নূর ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হামরা এখনো ভাড়া বাড়াইনি। বাসের ভাড়া না বাড়াইলে হামরাও ভাড়া বাড়িতাম না’।
পরিবহন ভাড়া বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ বিষয়ে একটি কমিটি। ১ মার্চ থেকে গ্যাসের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও এই কমিটি এ বিষয়ে কোনো বৈঠক করেনি। জানতে চাইলে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) রিয়াজুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগামী এক মাসের মধ্যে ভাড়া বাড়বে। এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।’
আগের নির্ধারিত হারের চেয়ে এমনিতেই তো বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে। তাহলে এখন কোন যুক্তিতে ভাড়া বাড়ানো হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএর এই কর্মকর্তা কোনো জবাব দিতে চাননি।
(ঢাকাটাইমস/৩মার্চ/এসও/ডব্লিউবি)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































