কয়লা চুরি: পক্ষে-বিপক্ষে উত্তেজনা, সংঘর্ষের আশঙ্কা

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার
| আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩৭ | প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩৪

বড়পুকুরিয়ায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা গায়েবের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি চক্র। কয়লা গায়েবের ঘটনায় যাদের নাম এসেছে তাদের পক্ষে বহিরাগত লোকজন মানববন্ধন করেছে। অন্যদিকে কয়লা চুরির বিচার চেয়ে শ্রমিক ও স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকায় বিরাজমান উত্তেজনা সংঘর্ষে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল।

২৩০ কোটি টাকার কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। খনির সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিবউদ্দীন আহম্মদ, কোম্পানি সচিব আবুল কাশেম প্রধানিয়াসহ ১৯ কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত ১৯ কর্মকর্তা ও খনির সাবেক দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান ও মো. আমিনুজ্জামানসহ ২১ কর্মকর্তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুদক।

গত সোমবার (৬ আগস্ট) বড়পুকুরিয়া খনি থেকে বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করে ঢাকায় নিয়ে গেছেন কয়লা দুর্নীতি মামলার তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সামছুল আলম। ২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ২৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৭ বছর সাত মাসের সাত ধরনের নথিপত্র জব্দ করা হয়।

দুদকের পরিচালক (অ্যাডমিন) কাজী শফিকুল আলম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, খুব দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। এখন যাচাই-বাছাই চলছে। কয়লা খনির প্রতিটি সেক্টরে গিয়েছি এবং সবার সাথে গভীরভাবে কথা বলা হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, এ মামলার আসামিদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এর আগে কয়লা গায়েবের তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক, পেট্রোবাংলা ও পিডিপি চেয়ারম্যানসহ দুদক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খনির ইয়ার্ড থেকে কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ধরা পড়ে গত ১৯ জুলাই। ২৩০ কোটি টাকার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা ঘাটতির অভিযোগে বিসিএমসিএলের সদ্য সরিয়ে দেওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদ, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। খনির এই তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৯ কর্মকর্তাকে আসামি করে গত ২৪ জুলাই দুর্নীতি দমন আইনের পার্বতীপুর মডেল থানায়  মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে দুদক।

কয়লার অভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট  বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। তাপবিদুৎ কেন্দ্রের বিদুৎ উৎপাদন বন্ধের প্রভাব পড়ছে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে। বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ ও ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন অপারেশন) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি খনির সাবেক চার ব্যবস্থাপনা পরিচালক যথাক্রমে মো. কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব ও সদ্য সাবেক হাবিব উদ্দিন আহমদকে কয়লা ঘাটতির জন্য দায়ী করে গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সর্বশেষ ২৯ জুলাই কয়লা উধাওয়ের ঘটনার তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন-ডিজি) খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- যুগ্ম সচিব (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ) নাজমুল হক ও পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান।

এরই মধ্যে বহিরাগত একটি পক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত আসামিদের পক্ষে মাঠে নেমেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সচিব কাশেম প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারসহ তাকে অবিলম্বে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার মানববন্ধন করে তারা। কয়লা খনি এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হলেও খনির আশপাশের ২০ গ্রামের কেউ অংশ নেয়নি তাতে।

সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে কয়লা চুরির সঙ্গে জড়িতদের পক্ষে বহিরাগত লোকজন মানববন্ধন করেছে বলে দাবি ২০ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর নেতা বুলবুলের।

শ্রমিক নেতা নূরুজ্জামানের অভিযোগ, বহিরাগতদের দিয়ে করানো এই মানববন্ধন মিডিয়ায় কাভারেজ দিতে কতিপয় ব্যক্তিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে আনা হয়।
কয়লা গায়েব কা-ে বসে নেই শ্রমিক ও স্থানীয় জনতাও। কয়লা চুরির বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছে তারা। এ নিয়ে এলাকায় ছড়াচ্ছে উত্তেজনা।

(ঢাকাটাইমস/৮আগস্ট/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :