পাবনার একটি আসনও ছাড়তে নারাজ বিএনপি

খাইরুল ইসলাম বাসিদ, পাবনা
 | প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৫৭

পাবনায় পাঁচটি আসনের মধ্যে কমপক্ষে তিনটি আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। অধিকাংশ আসনে সমঝোতা হলেও পাবনার তিনটি আসন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে চলছে বিরোধ। এর মধ্যে পাবনা-২, পাবনা-৪ ও পাবনা-৫ আসন পেতে নাছোড় অবস্থানে রয়েছে নিবন্ধন হারানো জামায়াত।

পাবনা-১: ইতোমধ্যে গণফোরামে যোগ দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। তার নির্বাচনী এলাকা পাবনা-১ সাঁথিয়া-বেড়া (আংশিক) আসনে ধানের শীর্ষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে পাবনা-১ সাঁথিয়া-বেড়া (আংশিক) আসনে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মুত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিব মমিন ও বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল বাসেত খান। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হওয়ায় তাদের শূন্যস্থানে জামায়াতের নেতৃত্বে আসতে চায় জামায়াত।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন জামায়াতের মতিউর রহমান নিজামী। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের নিজামী ও বিএনপির মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদেরকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। ২০০১ সালে আবু সাইয়িদকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পায় চার দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামী। ২০০৮ সালে সংস্কারপন্থী হিসেবে বহিষ্কৃত হোন আবু সাইয়িদ। ফলে নৌকার নতুন মাঝি হয়ে শামসুল হক টুকু জামায়াতের আমির নিজামীকে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে জামায়াত-বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। সেবার নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। সাইয়িদের করা নানা অনিয়ম কারচুপির অভিযোগের ওই নির্বাচনে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান টুকু।

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি ইতোমধ্যে দুইজন প্রার্থীতে মনোনয়ন দিয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার।

এদিকে বর্তমান আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াতের। ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলায় জামায়াতে বেশ কিছু ভোট রয়েছে যা নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জামায়াতের পাবনা জেলা আমির আবু তালেব মণ্ডল এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন।

জানা গেছে, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত একক আধিপত্য রয়েছে শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর। তিনি ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সিরাজুল ইসলাম সরদার মনোনয়ন পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয় হাবিব। সেবার হাবিব-সিরাজের দ্বন্দ্বে গোল দিয়ে নির্বাচনের বিজয়ের মালা পড়েন আওয়ামী লীগের ডিলু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সরদার। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে শামসুর রহমান শরিফ ডিলু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

পাবনা-৫ সদর আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরাও একজোট হয়ে তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

তবে এই আসনে জামায়াত নেতা ও পাবনা ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হুসাইনকে জামায়াত সমর্থন দিয়েছেন।

সদর আসনের সাবেক সাংসদ আ. সুবহান জেলে থাকায় এবং সাঁথিয়া আসনের সাবেক সাংসদ নিজামীর ফাঁসি হওয়ায় এই দুই আসনে জামায়াতের প্রার্থী করে তারা দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়। তাই এই আসনগুলোতে মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াত।

জানা গেছে, পাবনা-৫ আসন থেকে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত নেতা আবদুস সুবহান আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বকুলকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা রফিকুল ইসলাম বকুল আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেন।  ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকারকে পরাজিত করে বিএনপি প্রার্থী বকুল নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত নেতা আবদুস সুবহান আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়াজি উদ্দিন খানকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সেই সময়ে আওয়ামী লীগের উদীয়মান নেতা হিসেবে পরিচিত বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে চার দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানকে পরাজিত করেন। ২০১৪ সাল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম ফারুক প্রিন্স বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর জহুরুর ইসলাম বলেন, সারাদেশে জামায়াত যদি দুটি আসনও পায়, তাহলে সেটি হবে পাবনার দুটি আসন। তবে আমরা পাবনা-১ আসনে নাজিব মমিন ও বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল বাসেত খানের মনোনয়ন এবং পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের পাবনা জেলা আমির আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা-৫ আসনে অধ্যক্ষ ইকবাল হুসাইনের মনোনয়ন দাখিল করব।

পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, পাবনায় বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হওয়ার কোন ভিত্তি নেই।

(ঢাকাটাইমস/২৭নভেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :