মেধাবী দাউদের চিকিৎসায় প্রয়োজন ২০ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫১

এই যে নিশুতি রাত। সবার ঘুমের আয়োজন শেষ। কেউ ঘুমিয়েছে অনেক্ষণ আগে। দাউদ এখনো বসে আছে। খাটের উপর কুণ্ডলী পাকিয়ে সে বসে বসে ঘুমুচ্ছে। আমাদের জন্য এটা ঘুম নয়। দাউদের জন্য এটাই ঘুম। আমাদের মতো করে শেষ কবে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়েছে সে নিজেও জানে না।

একটু খানি শুতে গেলেই তীব্র ব্যাথায় ককিয়ে উঠে সে। মেরুদণ্ডে ভীষণ অসুখ তার। ভুগছে বহু বছর ধরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী দাউদ বাতজ্বরে আক্রান্ত হয় সেই ক্লাস সেভেনে থাকতে। তার বাবা ছিলেন দিনমজুর। চার বছর বয়সে সেই অভাবী বাবাটাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সুবিধাবঞ্চিত দাউদ দারিদ্রতা আর অসুস্থতাকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ পায়। এইচএসসি পরীরক্ষার সময় তার অসুখ আরো বেড়ে যায়। শুয়ে শুয়ে পরীক্ষা দিতে হয় তাকে। অল্পের জন্য এপ্লাস পাওয়া হয়নি তার। জীবন যেখানে বিপন্ন, পাস করাটাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ সেখানেও সে কৃতিত্ব দেখিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় সে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে ভর্তি ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখনকার মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. এবিএম আবদুল্লাহর অধীনে প্রায় মাস খানেক হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছিলেন প্রতিদিন দুধ ডিমসহ ভালো ভালো খাবার খেতে। বলেছিলেন স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে মাসে অন্তত চার হাজার টাকার বেশি খাবার খেতে। অথচ দাউদের একবেলা খাবারই ছিল অনিশ্চিত। বছর বছর দাউদ আরো অসুস্থ হয়ে গেলো। অনার্স থার্ড ইয়ারের সময় দাউদ কুঁজো হয়ে যেতে লাগলো। অনেকের সহযোগিতায় তাকে ইন্ডিয়া চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলো। বিশেষ লাভ হলো না।

গত ছ’মাস আগে ইন্ডিয়ার চেন্নাইয়ের এপোলো হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন দ্রুত সার্জারি করতে। ডাক্তারের হিসেবে হাসপাতালে খরচ হবে বাংলাদেশি টাকায় ১২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার চিকিৎসার ব্যয় অন্তত পক্ষে ২০ লাখ টাকা। দ্রুত চিকিৎসা না হলে দাউদের মেরুদণ্ড যে কোন মুহূর্তে অসার হয়ে যেতে পারে। যে কোনো সময়ই তার ঘাড় থেকে মাথাটা ছিঁড়ে যেতে পারে। এই মেধাবী ছেলেটা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। এই সীমাহীন অসুস্থতা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স বিভাগ থেকে অনার্সে ৬ষ্ঠ হয়েছে। মাস্টার্স পরীক্ষার সময় হলে কয়েকবার বমি করে দিয়েছিলো। এই মেধাবীর চিকিৎসায় বিভাগের শিক্ষকরা নিজেরা টাকা তুলেছেন।

এখনো শিক্ষক শুভাকাঙ্খীরা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাকে বাঁচাতে প্রয়োজন বিশ লাখ টাকা। এ বিশাল অঙ্কের টাকার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আসুন সবাই মিলে সহযোগিতা করি। টাকা সংগ্রহ হলে ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া দেয়া হবে।

সাহায্য পাঠানোর জন্য. মো. দাউদ নবী, সঞ্চয়ী হিসাব নং ১৩৩১ ৫১০০৭৯ ৪৭৫, ডিবিবিএল, মুরাদপুর শাখা চট্টগ্রাম।

মো. দাউদ নবী, সঞ্চয়ী হিসাব নং ০২৬১ ২১০০১৬ ৭৮০৮, এক্সিম ব্যাংক সিডিএ এভিনিউ শাখা, চট্টগ্রাম।

বিকাশ ০১৬৪০৮৩৫৮৩৬ (পারসোনাল) রকেট ০১৮৩৭৬৮৫৫৬৩

ঢাকাটাইমস/২০জানুয়ারি/টিএ

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত