ইজতেমায় মাওলানা সাদের জন্য আক্ষেপ

আবুল হাসান, গাজীপুর
| আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০২ | প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১২

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে চলছে দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা। রবিবার সকালে আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় ইজতেমার এ দ্বিতীয় পর্ব। শেষ হবে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হবে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে।

মোনাজাত পরিচালনা করবেন মাওলানা সাদের প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য হযরত মাওলানা শামীম। এর আগে হেদায়াতি বয়ান করা হবে।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। থাকছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়।

তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্দলভি এ বছর ইজতেমায় আসেননি। এর জন্য আক্ষেপ করছেন তার অনুসারীরা। অনুসারীরা চাইছেন তিনি যেন সামনের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। তবে যাদের সঙ্গে আদর্শগত কোন মিল নেই তাদের সঙ্গে কোন ইজতেমা হবে না বলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন ইজতেমার মুরুব্বি মাওলানা আশরাফ আলী।

ইজতেমার মুরুব্বি মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখো মুসল্লি তাদের নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। তারা রবিবার থেকেই দলে দলে বিভক্ত হয়ে ধর্মীয় আলোচনা, তালিম, জিকির আজকার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকালে ধর্মীয় বয়ান করেন ভারতের মুরসালিন, বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল্লাহ মনসুর। আগামীকাল সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত।

আখেরি মোনাজাতের জন্য একদিন সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে খুশি এখানে আগত মুসল্লিরা। তারা মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত মেনে আখেরি মোনাজাতের পর ইজেমাস্থল ত্যাগ করবেন।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা বলছেন, আখেরি মোনাজাতের জন্য একদিন সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে তারা খুশি। তারা খিত্তায় অবস্থান নিয়ে জিকির আজকারে সময় পার করছেন। মুসল্লিরা বলছেন, আল্লাহর পথে হেদায়াতের উদ্দেশ্যে তারা এখানে এসেছেন। তবে ইজতেমায় দুই গ্রুপ হওয়ায় দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষতি হয়েছে বলে আক্ষেপ করেন এসব মুসল্লিরা।

মুসল্লিদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের আগের মতো প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান বলেন, আগত মুসল্লিদের যেন কোন ধরনের সমস্যা না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি, মোটরসাইকেল টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিদেশি নিবাসে সংবাদ সম্মেলন: আখেরি মোনাজাত পরিচালনা, সামনের বছর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা ও মাওলানা সাদের আগমনসহ নানা বিষয় নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের বিদেশি কামরায় সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে দেশি মুসল্লিদের জিম্মাদার ও ইজতেমার মুরুব্বি মাওলানা আশরাফ আলী বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি জানান, এ বছর মাওলানা সাদ কান্দলভি ইজতেমায় আসেননি। তবে তার পক্ষে ৩২জনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছেন। তাদের মধ্য থেকে হযরত মাওলানা শামীম আগামীকাল সকাল ১০টায় ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাওলানা সাদ কান্দলভিকে যারা আমির মানেন তারা চাইছেন বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছরের ন্যায় তিনি আগমন করবেন। তার মাধ্যমেই বিশ্ব ইজতেমা তথা সারা দুনিয়া উপকৃত হয়। এজন্য আগামী বছর তার অংশগ্রহণ আমরা নিশ্চিত করতে চাই। মাওলানা সাদের অনুমতি নিয়ে আমাদের ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করতে হয়। এই কারণে আগামী বছর ইজতেমার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বিভাজনের বিষয়ে আদর্শগত বিরোধকে দায়ী করে মাওলানা আশরাফ আলী আরো বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আদর্শগত পার্থক্য থাকবে ততদিন ইজতেমা একসঙ্গে করার প্রশ্নই আসে না। আদর্শ ভিন্ন রেখে একসঙ্গে হওয়া মানে হচ্ছে সংঘাতকে ডেকে আনা। এ সময় বিদেশি জামাতের সমন্বয়কারী রেজা আরিফ, আব্দুল্লাহ শাকিলসহ ইজতেমার মুরুব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগ: ইজতেমার সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে ইজতেমা ময়দানে আসেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। তিনি আগামী বছর দুই গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ করে ইজতেমা আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, আগামীতে যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে পরস্পরের ভেদাভেদ ভুলে যেয়ে টঙ্গীর ময়দানে পূর্বের ন্যায় ইজতেমা করতে পারি সেজন্য আল্লাহর কাছে তওফিক কামনা করি।

ইজতেমায় এক মুসল্লির মৃত্যু: টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ইসমাইল হোসেন নামে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। বার্ধক্যজনিত রোগে রবিবার দিবাগত রাত একটার দিকে তিনি খিত্তায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। মৃত ইসমাইল হোসেনের বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায়। বাদ ফজর ইজতেমা ময়দানে তার জানাজার নামাজ পড়ানো হয়।

যানাবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে মানুষের আসার সুবিধার্থে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচলে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

সোমবার মধ্যরাত থেকে আব্দুল্লাহপুর থেকে ভোগড়া বাইপাস এবং মীরের বাজার থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত উভয়মুখী মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

যারা বয়ান করলেন: সোমবার বাদ ফজর দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা মুরছালিন বয়ান করেন। আর বয়ানের অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল্লাহ মনসুর। সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বয়ান করেন ইকবাল হাফিজ ও এলাহাবাদের শাহেদ। এছাড়া খাওয়াছদের (ভিআইপি) বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের মুফতি সাজিদ। বধিরদের উদ্দেশ্যে বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মুরুব্বি মাওলানা ওমর মেওয়াতি।

আরবি খিত্তায় বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল্লাহ মনসুর এবং ইংরেজি খিত্তায় বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মুরুব্বি প্রফেসর লিয়াকত।

এছাড়া মালশিয় খিত্তায় বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের মুফতী শাহজাদ ও মুফতি রিয়াছত। উর্দু খিত্তায় বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা শওকত।

রুশ (রাশিয়া) খিত্তায় বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের প্রফেসর নওশাদ, চায়না খিত্তায় বয়ান করেন নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা আসআদ।

এবার ৫ দিনব্যাপী ইজতেমার প্রথম দুইদিন জোবায়ের অনুসারীরা ইজতেমায় অংশ নেন। শনিবার আখেরি মোনাজারে মধ্যদিয়ে শেষ হয় তাদের ইজতেমা।

আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ তারিখ সকালে সাদপন্থি মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করেন। পরে তাদের আবেদনে একদিন সময় বাড়িয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের তারিখ নির্ধারণ করে প্রশাসন।

ঢাকাটাইমস/১৮ফেব্রুয়ারি/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :