আলোচিত ডিআইজি মিজান দৃষ্টির আড়ালে

আশিক আহমেদ
 | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৯, ০৯:৩১

বিতর্কিত ঘটনায় বহুল আলোচিত ডিআইজি মিজানুর রহমান এখন পুলিশ ও মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টির আড়ালে। এক নারীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ ওঠার পর তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

এরপর প্রায় দুই বছরেও তার বিরুদ্ধে আর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শোনা যায়নি।

এদিকে পুলিশের বরখাস্ত এই ডিআইজির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি অভিযোগের সত্যতা মিলেছে মর্মে প্রতিবেদন দেওয়ার পর সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখায় গিয়েছিল। কিন্তু প্রায় দেড় বছরেও সেখান থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-১ শাখার তথ্যমতে, মিজানুর রহমান আদালতে একটি রিট করেছিলেন। তার আদেশের কপি পুলিশ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। এরপর আর কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

অর্থাৎ ডিআইজি মিজান এখন প্রশাসনের মনোযোগের বাইরে বলে মনে হচ্ছে। ফলে তার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা।

ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপিকাকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার যে অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়, তারও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০১৭ সালের ১ জুলাই মরিয়ম আক্তার ইকো ও তার মা কুইন তালুকদারকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ ওঠে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। একটি জাতীয় দৈনিকে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তাকে ডিএমপি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

ওই কমিটিতে ছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অর্থ) মঈনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শাহাব উদ্দিন কোরেশি এবং অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান।

গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়ার তথ্য জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। ২০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় পুলিশসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে।

পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মতামতসহ এই প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠান আইজিপি। ওই বিভাগের সচিব পরে ডিআইজি মিজানুরের শুনানি গ্রহণ করেন।

বিধান অনুযায়ী অভিযুক্তের জবাবে সন্তুষ্ট হলে শাস্তি ছাড়াই বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে পারেন সচিব। আর জবাব সন্তোষজনক না হলে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকা-ের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা তথা বিভাগীয় মামলা করার কথা। এতে দোষী সাব্যস্ত হলে গুরুদ- হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতির বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি) নূরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অতিরিক্ত সচিব ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে পারব না।’

এমন একটি আলোচিত ঘটনার ব্যাপারে কে কথা বলবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা করলে আমার সচিব কথা বলতে পারেন।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-১ শাখার সহকারী সচিব মফিজুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মিজানুর রহমান আদালতে একটি রিট করেছিলেন। তার একটি আদেশ আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা সেই আদেশের কপি পুলিশ অধিদপ্তরে পাঠিয়েছিলাম আইজিপিকে জবাব দেওয়ার জন্য। এরপর আর কোনো আদেশ আমাদের কাছে আসেনি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক ওয়াই এম বেলালুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, এ ব্যাপারে তিনি এখন কিছু বলতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার অফিস সময়ে খোঁজ নিয়ে জানাবেন।

মিজানুর রহমানের অবস্থান ও তার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

(ঢাকাটাইমস/১৭মে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :