বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পাঁচ লাখ মানুষের সেবায় তিন ডাক্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৯, ০৯:৩৯

তিনজন ডাক্তার দিয়ে চলছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দান। পাঁচ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই একমাত্র ভরসা।

এ ছাড়া অবস্থাগত কারণে পার্শ্ববর্তী জেলার সালথা, মহম্মদপুর ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি অংশের রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক, জনবল ও প্রয়োজনীয়ও উপকরণসহ নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে এ উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এখানে প্রায় তিন শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন। ৫০ বেডের হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এ কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও  চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতালের সুইপার, ওয়ার্ডবয়, অফিস সহকারীসহ নানা পদ শূন্য পড়ে আছে। ফলে হাসপাতালেরও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাও বজায় রাখা যায় না।

এ ছাড়াও, এক্স-রে মেশিনের নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ না থাকায় পুরাতন ভবনের একটি কক্ষে গত ১০-১২ বছর ধরে পড়ে থেকে সেটি অচল হয়ে গেছে। আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিন লোকবলের অভাবে গত ২-৩ বছর অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। সেটাও মরিচা পড়ে নষ্ট হওয়ার পর্যায়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। সেখানে গিয়াস উদ্দিন আহমেদ কর্মরত আছেন শিশু কনসালটেন্ট হিসেবে, মেডিকেল অফিসার হিসেবে আছেন সৌমিত্র সরকার ও শান্তনু ভট্টাচার্য। এর মধ্যে শান্তনু কর্মস্থল খামার পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে। চিকিৎসক সংকটের কারণে মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নুরজাহান বেগম ও নুরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাপস বিশ্বাস প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি অধিকাংশ সময় রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য জনবলের মধ্যে সুইপার পোস্ট ৫ জন থাকলেও আছে একজন, ওয়ার্ডবয় গত এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। অন্যান্য পদের মধ্যে অফিস সহকারী একজন ও এমএলএসএস একজন ছাড়া বাকি পদগুলো শূন্য রয়েছে।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাপস বিশ্বাস ঢাকা টাইমসকে বলেন, ডাক্তার সংকটের কারণে বর্তমানে যারা আছেন তাদের ওপর প্রচ- চাপ পড়ছে। এখানে জুনিয়র কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে ডাক্তার রকিবুল কবিরের পোস্টিং থাকলেও গত দেড় বছর ধরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ডেপুটেশনে আছেন। ডাক্তার মনোয়ারা শারমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেড় বছর ধরে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত চিঠি দিয়েও লোকবলের সংকটের কথা জানিয়ে যাচ্ছি। কখনো কোনো ডাক্তারের এখানে পোস্টিং হলেও অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিভিন্ন কোর্স, ডেপুটেশন ও প্রশিক্ষণের জন্য চলে যান। এ ছাড়া এখানে ক্যাশিয়ার, হিসাব রক্ষক ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে।

এক্স-রে, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও অপারেশন থিয়েটার লোকবলের অভাবে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।

তবে, তাপস বিশ্বাস জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসা সংকট কাটতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :