ভালো থাকার দাওয়াই গান

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ১১:১৩ | প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০১৯, ১১:০৯

গান একদিকে যেমন আমাদের মনকে প্রফুল্ল রাখে, তেমনি গবেষণায় দেখা গেছে, এটি আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বড় ধরণের ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে এতে ফুসফুসের অবস্থার উন্নতি হয়। সেইসঙ্গে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রষ্ট রোগ মোকাবেলা করতেও সাহায্য করে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের অধ্যাপক ডেইজি ফ্যানকোর্ট বলেন, ‘গান গাইলে কোর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন বা মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের পরিমাণ কমে যায়। এছাড়া এটি এন্ডরফিন হরমোনের নি:সরণেও সাহায্য করে। যে হরমোনের মাত্রার ওপর আমাদের মেজাজ ভালো থাকা না থাকা নির্ভর করে।’

অধ্যাপক ফ্যানকোর্টের মতে, গান গাওয়ার নানাবিধ স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের মানসিক অভিব্যক্তি, যেটা কিনা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বা মানুষের সঙ্গে ভাব আদান প্রদানে সাহায্য করে।  ফলে মানুষের মধ্যে থাকা বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি হ্রাস পায়।  যারা নিয়মিত কনসার্টে যান তাদের প্রত্যেকের প্রায় একই হারে স্ট্রেস হরমোন কমে যায়।

গবেষকরা এর সঙ্গে আরও যোগ করেছেন যে, ‘গুরুতর এবং স্থায়ী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় যারা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন, তাদের এমন সমস্যা থেকে বের করে আনতে গান গাওয়া বড় ধরণের ভূমিকা রাখে।

গান গাওয়া, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রষ্ট রোগে আক্রান্ত রোগীদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে অনেকটা ওষুধের মতো কাজ করে। এজন্য গানকে থেরাপি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। যখন আমরা গান করি, তখন আমাদের মস্তিষ্কের পিকর্টিক্যাল অংশে রক্তের প্রবাহ বাড়ে। মস্তিষ্কের এই অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেই মানুষের ডিমেনশিয়া হয়ে থাকে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ‘মাইন্ড সং’ তাদের গায়কদেরকে নিয়মিত বৃদ্ধাশ্রমে পাঠান, যেন তারা সেখানে বসবাসকারী সবাইকে গান গাইতে উৎসাহিত করতে পারেন। এর পরের ফলাফল আশ্চর্য হওয়ার মতো। একটি দলের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গান গাওয়ার কারণে ওই বয়স্ক ব্যক্তিদের পরের দিন পর্যন্ত মেজাজ ভালো থাকতো বলে জানান বৃদ্ধাশ্রমের এক তত্ত্বাবধায়ক।

‘মাইন্ড সং’-এর পরিচালক ম্যাগি গ্র্যাডি বলেন, ‘দলীয়ভাবে গান গাইলে মানুষ তাদের মানসিক অসুস্থতা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে আসতে পারে। তারা নিজেদের মূল্যায়ন করতে শেখে এবং এতে তাদের নিজেদের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়।’

এম জে পারানজিনোর পরিচালক লিবার্টি কোয়ের ব্রিটেনের জেলখানায় থাকা বন্দীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি কর্মসূচি পরিচালনা করেন, যেন তারা ছাড়া পাওয়ার পর সমাজে আগের মতো সহজেই মিশে যেতে পারে বা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।

বন্দীরা শুরুতে এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে চায়নি। কিন্তু গান গাওয়া শুরু করার পরে তারা আগের চাইতে অনেক বেশি চোখে চোখ রাখার সাহস অর্জন করতে পেরেছিল বলে জানান লিবার্টি কোয়ের। এছাড়া দলীয় সংগীত একাকীত্ব ও সংকোচ কাটাতে, আড়ষ্টতা দূর করে আত্মবিশ্বাসী করতে, এমনকি ব্যক্তির সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে তিনি মনে করেন।

‘মাইন্ড সং’ নামের ওই দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি ফুসফুসে আক্রান্ত রোগীদের সংগীতের পাঠ দিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে হাঁপানি রোগী থেকে শুরু করে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী পর্যন্ত রয়েছেন। পাঁচ বা ছয়টি গানের সেশনে যোগ দেয়ার পর সেখানকার বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারীদের শ্বাসপ্রশ্বাসে বড় ধরণের পরিবর্তন হয়েছে।

গান গাওয়ার কারণে শরীরে এন্ডোরফিন নামের হরমোন নি:সরিত হয়, যার সঙ্গে আমাদের মানসিক তৃপ্তি জড়িত। গান গাওয়ার সময় আমাদের গভীর শ্বাস নিতে হয়, যা শরীরের চারপাশে রক্ত প্রবাহ বাড়াতে এবং এন্ডোরাফিনের প্রভাব বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ মিনিট ধরে দলীয় গান গাওয়ার পরে মানুষের শরীরে কর্টিসোল বা স্ট্রেস হরমোন স্বাভাবিক সময়ের চাইতে বেশি হারে নি:সরিত হয়। আমাদের কর্টিসলের মাত্রা সাধারণত দিনের শেষে বন্ধ হয়ে যায়। তবে গান গাইলে এর নি:সরণের গতি আরও বাড়ে। এছাড়া গান গাইলে অক্সিটোসিন হরমোন উৎপাদন হয়। যাকে কখনও কখনও ‘প্রেমের হরমোন’ বলা হয়।

ঢাকাটাইমস/১২ জুলাই/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :