ভারতে যে বাড়িতে জন্মেছিলেন এরশাদ

মনোনেশ দাস, ময়মনসিংহ
 | প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৮

সাবেক সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জন্মগ্রহণ করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার দিনহাটায়।

২০১৭ সালের অক্টোবর ভারতে বেড়াতে গিয়ে প্রতিবেদক এরশাদের এই বাড়িতে যান।  কথা হয়, বাড়িতে বসবাসকারী এরশাদের জেঠাতো ভাই তোফাজ্জল হুসেইন (ভানু) এবং তার সহধর্মীনি জেউবুন্নিছার সাথে ।

তারা বলেন, ‘দিনহাটার এই বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ভাই। এই বাড়িতে থেকে দশম শ্রেণি পড়ার সময় তিনি চলে যান বাংলাদেশে। এরশাদের দাদা ছিলেন, উকিল সাহদতউল্লাহ। তার পাঁচ পুত্র- রেয়াজদ হোসাইন, মকবুল হোসাইন, (এরশাদের বাবা), তোছাদ্দেক হোসাইন, তোফাজ্জল হোসাইন এবং বেলায়েত হোসাইন।

তোফাজ্জল হুসেইন (ভানু) এবং তার সহধর্মীনি জেউবুন্নিছা দম্পতি প্রতিবেদককে দেখালেন, এরশাদের শৈশবে ব্যবহৃত খাটসহ স্মৃতিজড়িত অনেক কিছুই। এরশাদ তখনও এই বাড়িটিতে যেতেন। এই খাট এবং চেয়ার ব্যবহার করতেন।

দিনহাটা পৌরসভা এলাকায় এখনো তাদের ১০০ বিঘা জমি রয়েছে। এছাড়াও কোচবিহার জেলার নটকোবাড়িতে এরশাদের পৈত্রিক গ্রামেও জমি আছে।

এরশাদের জীবনীগ্রন্থ ‘আমার কর্ম আমার জীবন’ সূত্রে জানা যায়, ভারতের তৎকালীন চিফ কমিশনারের ২৪ ঘণ্টার বেঁধে দেয়া সময়ে তার পিতা মকবুল হোসেন তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চলে আসেন রংপুরে। অপর বহিষ্কৃতরা পরে কোচবিহারে ফিরলেও মকবুল হোসেন তার ছেলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে থেকে যান রংপুরেই। ১৯৫০ সালে ক্রয় সূত্রে ঠিকানা হয় রংপুর মহানগরীর নিউ সেনপাড়ায় বর্তমান (স্কাইভিউ) বাড়িতে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাবা পেশায় ছিলেন আইনজীবী। তিনি রংপুরের আদালতে শুরু করেন আইন পেশা।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাবা মকবুল হোসেন ছিলেন দিনহাটা আদালতের আইনজীবী। মা ছিলেন গৃহবধূ। ভারতের কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা তিনি। কোচবিহার ছিল মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপবাহাদুর শাসিত করদ মিত্ররাজ্য।

ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে মহারাজা ও ভারত সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে কোচবিহারের শাসন ব্যবস্থা একজন চিফ কমিশনারের হাতে ন্যস্ত করা হয়। চিফ কমিশনার নিযুক্ত হন ভিআই নান্নাজাপ্পা।

১৯৫০ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলায় পরিণত হয় কোচবিহার। স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম জোতদারদের সমন্বয়ে গঠিত কোচবিহার স্টেট কাউন্সিলের সভায় মতবিরোধ তৈরি হয় ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিষয়ে। কাউন্সিলের প্রায় সব সদস্য পাকিস্তানের সঙ্গে যোগদানের পক্ষে অবস্থান নিলেও একজন হিন্দু সদস্য বিরোধিতা করেন। মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপবাহাদুর ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে অবস্থান নেন। ওই সময়ে স্টেট কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘হিতসাধনা সভা’ কোচবিহারের প্রতিটি থানায় সভা-সমিতির মাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালাতে থাকে।

মুসলিম সদস্যরা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতে আরও কয়েকজনের সঙ্গে এরশাদের বাবা দিনহাটা আদালতের আইনজীবী মকবুল হোসেনকেও কোচবিহার থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অবশ্য তার কয়েক বছর আগে ১৯৪৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নের জন্য রংপুরে এসেছিলেন এরশাদ। তার তখন গ্রাজুয়েশন শেষ পর্যায়ে। থাকতেন কারমাইকেল কলেজের জিএল হোস্টেলে।

আরও আগে থেকে রংপুরে থাকতেন তার বড় বোন নাহার ও ভগ্নিপতি সিরাজুল হক। ভগ্নিপতি ছিলেন ইন্সপেক্টর অব স্কুর্লস।

রবিবার সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এইচএম এরশাদ।

(ঢাকাটাইমস/১৪জুলাই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :