এডিস নির্মূলে ‘চিরুনি অভিযান’ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৯, ১৮:০৬ | প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০১৯, ১৮:০০

এডিসবাহী মশা নির্মূলে ওয়ার্ডভিত্তিক ‘চিরুনি অভিযান’ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। অভিযানে ডিএনসিসির অধিভুক্ত ওয়ার্ডগুলোতে বাসা-বাড়িতে গিয়ে এডিসের লার্ভা শনাক্ত, তা ধ্বংস করা এবং যে বাড়িতে লার্ভা পাওয়া যাবে সেই বাড়ির সামনে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উত্তরের সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার গুলশানের শহীদ ডা. ফজলে রাব্বী পার্ক থেকে ‘ওয়ার্ডভিত্তিক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেয়র।

আতিকুল বলেন, ‘স্থানীয় জনগণ এই অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই অভিযানটি সফল হবে। তাই এ অভিযানে ডিএনসিসির সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আমরা বাসা-বাড়িতে গিয়ে এডিস মশার লার্ভা পেলে তাকে সতর্ক করবো এবং সতর্ক বাণী লেখা একটি স্টিকার লাগিয়ে দেব।’

‘তারপরেও কোনো স্থাপনায় এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে সিটি কপোরেশন আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মেয়র বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস এরপর তারা নিজেদের শুধরে নেবেন। যদি শুধরে না নেন, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

ডিএনসিসির ১৯নং ওয়ার্ড (গুলশান-বনানী এলাকা) থেকে এ অভিযানের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়। অভিযান ত্বরান্বিত করতে ওয়ার্ডটিকে ১০টি ব্লকে ভাগ করা হয়। আবার প্রতিটি ব্লককে ১০টি সাব-ব্লকে ভাগ করা হয়। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রথম দিনে ১ নম্বর ব্লকের ১০টি সাব-ব্লকে ১০টি উপদলে বিভক্ত হয়ে এই অভিযান সম্পন্ন করে। এভাবে আগামী ১০ দিনে এ ওয়ার্ডটিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পন্ন হবে। এই ওয়ার্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ডিএনসিসির অন্যান্য ওয়ার্ডেও এই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

ডিএনসিসি মেয়রের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। খ্যাতিমান এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। আমাদের বাসাবাড়ির ভেতরে এবং আশেপাশে এডিস মশার বংশবিস্তারের স্থানগুলো ধ্বংসের কাজটি নিয়মিত নগরবাসীদের করে যেতে হবে।’

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ’পরিচ্ছন্ন হলেই আলোকিত মানুষ হওয়া যায়। অপরিচ্ছন্ন মানুষ আলোকিত মানুষ হতে পারে না। আমাদের মধ্যে নোংরামির অভ্যাস আছে। খুব অল্প কয়েকজনকে বাদ দিলে আমাদের কারো বাড়িঘর পরিপাটি না। আমাদের সমাজেই একটা বিশৃঙ্খলা আছে। এসব থেকে নিস্তার পেতে হলে আশেপাশের সবকিছু আমাদেরকেই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

উদ্বোধন শেষে মেয়র অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ ডা. ফজলে রাব্বী পার্কের পাশের গুলশান ১নং সড়কের ১ নম্বর ভবনে যান। এ বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে পরিত্যক্ত একটি কমোডের ফ্লাশে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়।

উপস্থিত ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ভবনের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে বিনাশ্রম ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

পরে মেয়র ওই ভবনটির সামনে একটি স্টিকার লাগিয়ে দেন। স্টিকারে লেখা ছিল ‘সাবধান! এ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মঞ্জুর হোসেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান, বিভিন্ন সোসাইটির নেতারা।

(ঢাকাটাইমস/২০আগস্ট/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :