রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে আর অর্থ বরাদ্দ নয়: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৭:২৭
ফাইল ছবি

রাষ্ট্রীয়ত্ব চার ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকে অর্থ বরাদ্দ করা হবে না। বাজেটেও এসব ব্যাংকের জন্য বরাদ্দ থাকবে না। এসব ব্যাংকে নিজেটর টাকায় চলতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রবিবার শেরেবাংলা নগর এনইসি মিলনায়তনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চারটি ব্যাংককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা অনেক বড়। আমাদের বৃহত্তর চারটি ব্যাংক তারা। তাদের যে এক্সারসাইজ, তাদের যে অবস্থান ব্যাংক খাতে; এই চারটি ব্যাংক চাইলেই সার্বিকভাবে আমাদের ব্যাংক খাতকে বেগবান রাখতে পারে।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা আলোচনায় সুনির্দিষ্টভাবে কিছু রাখিনি। আজ আমরা একে অপরকে জানব, তাদের জন্য আমাদের শুভ কামনা থাকবে সবসময়। তারা আমাদের একটি কর্মপরিকল্পনা দেবেন, কীভাবে এই ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী করা যায়। আরও বেগবান করবেন। এ বিষয়ে আজকে তারা আমাদের অবহিত করবেন। এ জন্য আজকে আমরা এখানে বসেছি।’

অর্থ বরাদ্দ মুস্তফা কামাল বলেন, ‘রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে আর রিফাইন্যান্সিং (অর্থ বরাদ্দ) নয়। প্রতি বছর যে রিফাইনেন্সিং করতাম লস (ঘাটতি) কভার করার জন্য, দ্যাট অফ (তা বন্ধ)। দ্যাট’স স্টোরি অব পাস্ট (এটা এখন থেকে অতীত)। আর কোনো দিন রিফাইন্যান্সিং হবে না।’
‘তাদেরকে অর্থ আয় করতে হবে। এ দেশের মানুষকে দেখাশোনা করেই তাদেরকে বেতন নিতে হবে’, যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমমন্ত্রী বলেন, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। জনগণকে সেবা দিয়ে আয় করেই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে। চার ব্যাংককে সাত দিনের কর্ম পরিকল্পনা বেঁধে দেয়া হয়েছে। সাত দিন পরে তারা ব্যাংকের কর্ম পরিকল্পনা আমার কাছে নিয়ে আসবেন। সরকার এগুলো দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। আমরা তাদের অর্থায়ন বাদে অন্যান্য সহায়তা করবো।

চার ব্যাংক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চারটি ব্যাংকের এলাকা অনেক বড় প্রায় ২৫ শতাংশ। চারটি ব্যাংককে লোকসান কমিয়ে এনে ১৫ শতাংশ লাভ করতে হবে।জনগণকে সেবা দিয়ে মুনাফা বাড়াতে হবে। অর্থনীতি মানুষের জন্য। সরকার এমন কিছু করবে না, যাতে জনগণের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ‘ তিনি আরো বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়ে শিগগরিই সার্কুলার জারি করা হবে।

 খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সিট প্ল্যান(খেলাপি ঋণ কমানো পরিকল্পনা) বাস্তবায়িত না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেশি দেখাচ্ছে। এটা বাস্তবায়ন হলেই খেলাপি ঋণ অনেক কমে আসবে। এই এক্মিট প্ল্যান আদালতে আছে। এটা বিচারাধীন থাকায় এই বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। আইনের দ্রুত সুরাহা হলেই খেলাপি ঋণের বর্তমান চিত্র থাকবে না। আইনটি বাস্তবায়নাধীন থাকায় অনেক ব্যবসায়ী খেলাপি ঋণ পরিশোধ করছে না।‘

জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা অবকাঠামো খাতে অনেক বিনিয়োগ করেছি। বর্তমানে এসবের সুফল পাবো। এসবের সুফল পেতে থাকলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নীচে নামবে না। আমাদের আর্থিক খাত ঠিকভাবে চলছে।আমরা অর্থনীতির সব খাতেই ভালো করছি। দেশে  এক্সপোর্ট বাড়ছে। যারা বলছে এক্সপোর্ট কমছে তারা অসত্য বলছে।’

পুঁজি বাজার প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, পুঁজিবাজার সঠিকভাবে চলছে। এখানে বাইরের পুঁজি নাই। পুঁজিবাজার আমাদের ক্ষতির কারণও হবে না।’
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম , ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার,  সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকে  চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি  মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/ ২৫ আগস্ট/জেআর/আরএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :