দৌলতদিয়ায় নদীগর্ভে আরো একটি ঘাট, তীব্র যানজট

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:২৯

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ফের নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে শুক্রবার সন্ধ্যার পর মুহূর্তের মধ্যে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে ৩-নং ফেরিঘাট। ভাঙনের হুমকিতে আছে ৪ ও ৫ নং ফেরিঘাট। এ দুটি ঘাটও যে কোনো সময় পদ্মায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাট বিলীন হয়েছে পদ্মায়। এ নিয়ে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ছয়টি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে তিনটি ঘাটই বন্ধ রয়েছে। যার ফলে ফেরিঘাটে পদ্মা নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন। ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়। নিম্ন চাপের কারণে গত কয়েকদিনের গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরাও।

প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নং ঘাটটি। চারটি ঘাট দিয়ে যানবাহন নদী পার করছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিম্ন চাপের কারণে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় গত শুক্রবার রাতে চারটি ঘাটের মধ্যে ৩ নং ঘাটটি থেকে মাটি সরে যায়। এতে মুহূর্তেই পদ্মায় বিলীন হয় সেটি। কর্তৃপক্ষ ঘাটটি আপাতত বন্ধ রেখে সংস্কারের কাজ শুরু করে। শনিবার বিকাল পর্যন্তও দৌলতদিয়ায় বন্ধ থাকা এ ফেরি ঘাটের মেরামত চলছিল।  বর্তমানে তিনটি ঘাট বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ( বিআইডব্লিউটিসি) কর্তৃপক্ষ।

ঘাট সংখ্যা কমে যাওয়ায় নদী পার হতে আসা যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে মহাসড়কে। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো। কারণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘাট কর্তৃপক্ষ যাত্রীবাহী বাসগুলোকে নদী পার করায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শনিবার বিকাল চারটায় সরেজমিনে দেখা যায়, ৩ নং ঘাটটি সংস্কারের জন্য কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নদী পারের জন্য প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন অপেক্ষামান রয়েছে। আর গোয়ালন্দ মোড়ে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে প্রায় দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। নদী পারের জন্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।

ঘাট সংখ্যা কমে যাওয়ায় যানবাহনের স্বাভাবিক পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি পার হতে আসা যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ঢাকাগামী শত শত গাড়ি ঘাট ও সংশ্লিষ্ট সড়কে দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে রয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চালক সালাম মোল্লা বলেন, ‘ভোর রাতে এখানে এসেছি। এখনো আমার আগে প্রায় শতাধিক যানবাহন রয়েছে।’

ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এর চাপ পড়েছে মহাসড়কেও। ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. রুহুল আমীন ঢাকাটাইমসকে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন এ পথে কয়েক হাজার গাড়ি ফেরি পারাপার হয়। পদ্মায় হঠাৎ পানি ও স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গত ১ অক্টোবর থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়। ৫ অক্টোবর মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় ১ ও ২ নং ফেরিঘাট। পদ্মায় মিশে যায় পাশের সিদ্দিক কাজীরপাড়া ও মজিদ শেখেরপাড়া গ্রামের কয়েক শ পরিবারের বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও অসংখ্য গাছপালা। টানা ১৮ দিন ভাঙনের পর নদীর পানি ও স্রোতের তীব্রতা কমতে শুরু করে। একপর্যায়ে ফেরিঘাট এলাকার ভাঙন থেমেও যায়। কিন্তু হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত বুধবার রাত থেকে পদ্মায় বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এতে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। আর শুক্রবার রাতে ৩ নং ফেরিঘাটটিও ভাঙনের কবলে পড়ে। এটি সংস্কারে কাজ চলছে। এটি চালু হলে যান পারাপারের স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।

ঢাকাটাইমস/২৬অক্টোবর/ইএস

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :