বইমেলায় মায়ের স্বস্তি দেবে ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০০ | প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৭

মায়েদের নির্বিঘ্নে বইমেলা উপভোগের জন্য এবারের মেলায় থাকছে ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’। বৃহস্পতিবার বইমেলা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের নতুন সংযোজন হিসেবে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

তিনি বলেন, জনবহুল জায়গায় মায়ের অস্বস্তি দূর করতে এবং মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব বোঝাতে অমর একুশে বইমেলায় এ উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে। বইমেলায় এই ব্রেস্টফিডিং কর্নারটি থাকবে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কাছে।

মা ও সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের অবস্ অ্যান্ড গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বইমেলায় এই উদ্যোগটা নেয়া হয়েছে শুনে খুব ভালো লেগেছে। কারণ ব্রেস্ট ফিডিং মূলত ১৮ মাস করাতে হয়। এর মধ্যে ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছুই খেতে বলি না। সেক্ষেত্রে মা যেখানেই জার্নি করে না কেন তার দুধ খাওয়াতেই হয়। আর আমরা সবাই জানি যে, মায়ের বুকের দুধ সন্তানের মস্তিষ্কে উন্নতির জন্য কাজ করে যা কোনো প্রকার কৃত্রিম দুধপানে এ বিকাশ সম্ভব না। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় মায়ের বুকের দুধ পানের মাধ্যমে। ব্রেস্ট ফিডিং করালে জরায়ুর মুখে ক্যান্সার ঝুঁকি কমে যায় এছাড়া তখন যে অতিরিক্ত মেদ জমে সেটা কমে যায়। সে ক্ষেত্রে যে মায়েরা প্রতি বছর বইমেলায় গিয়েছে কিন্তু দুধ পান করাচ্ছে এমন সন্তানকে নিয়ে রেখে যাওয়া কষ্টকর আবার নিয়ে যাওয়াটা কষ্টকর। তো সে ক্ষেত্রে এবারের মেলার একটি সত্যিই খুব প্রশংসনীয়।

যদিও আন্তর্জাতিকভাবে ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ^ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করে আসছে। হতাশার কথা হলো প্রায় ১ যুগ পার হতে চলেছে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের কিন্তু অফিস, আদালত,শপিং মল, ব্যাংক,বীমা, হাসপাতাল, রেলওয়ে ও বাস টার্মিনালসহ প্রতিটা জনবহুল জায়গায় ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন ও আগে তৈরি করা কর্নারগুলো সচল করার নির্দেশনা মানছে না অনেক প্রতিষ্ঠানই। তবে এবারের অমর একুশে বইমেলায় এ উদ্যোগটি মা এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নজরে রাখার জন্য প্রশংসার পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলাটাও জরুরি মনে করেছেন অনেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজের শিক্ষক ড. তানিয়া হক ঢাকা টাইমসকে বলেন, মা সন্তানকে যেকোনো জায়গায় বুকের দুধ খাওয়াবে বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে যেহেতু ঘরের বাইরে এটা প্রচলিত না সেক্ষেত্রে এরকম ব্রেস্টফিডিং কর্নার সবক্ষেত্রেই জরুরি। কারণ এখন আমাদের দেশে আনাচে কানাচে জায়গাতেও নারীরা কাজ করছে। সেক্ষেত্রে বইমেলায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার রাখাটা নিঃসন্দেহে খুব চমৎকার উদ্যোগ। তবে এ মেলাগুলো তো অস্থায়ী। একমাস পর শেষ হয়ে যাবে। তাই স্থায়ী যেমন অফিস, শপিংমলসহ সেসব জায়গাতে অবশ্যই ব্রেস্টফিডিং কর্নার রাখা উচিত। বইমেলা থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারটি অন্যদের জন্য উদাহরণ হতে পারে।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার বিকাল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করা হবে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আর ছুটির দিনে বেলা ১১ টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

(ঢাকাটাইমস/৩০জানুয়ারি/টিএটি/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :