ভাষা দিবসে জমজমাট বইমেলা

তানিয়া আক্তার, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:৫৬ | প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:২০

একুশের দিনটি বাঙালি জাতির জন্য শোকের। বাংলা ভাষার জন্য যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন আজ। শহীদ দিবসের পাশাপাশি আজকের দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও পালিত হচ্ছে। ভাষা দিবসের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে তাই পথে নেমেছে মানুষের ঢল। আজ সব পথ মিশে গেছে শহীদ মিনারের পথে। শহীদবেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর পর সবাই ভিড় করেছেন একুশের চেতনা লালিত বইমেলায়। দুপুর গড়াতেই লাখো বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে অমর একুশে বইমেলা।

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বইমেলার দরজা খুলেছে সকাল সাড়ে সাতটায়, মূলমঞ্চে একুশের প্রভাতের স্বরচিত কবিতা পাঠের আসরের মধ্য দিয়ে। এরপর আটটায় শুরু হয় বইমেলার মূল কার্যক্রম। সকালে অনেকটা নীরব থাকলেও দুপুর গড়াতেই দেখা মেলে কাঙিক্ষত বইপ্রেমীর।

বইপ্রেমীর সাজ-পোশাকে রয়েছে শোকের আবহ। প্রায় প্রত্যেকেই গায়ে জড়িয়েছেন সাদা-কালো রঙের পোশাক। তরুণরা পাঞ্জাবির সঙ্গে উত্তরীয় এবং নারীরা শাড়িতে সেজেছে আর মাথায় ফুলের টায়রা তো আছেই। পোশাকে বর্ণমালা, শহীদ মিনার কিংবা ভাস্কর্যের প্রতিচ্ছবি। কেউ কেউ মাথায় জড়িয়েছে পতাকা। এছাড়া একুশের রঙে সেজেছে আবালবৃদ্ধবণিতা।

একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনের বইয়ের প্রতিই ঝোঁক বইপ্রেমীদের।

এবারই বইমেলায় প্রথম এসেছেন ব্যাংকার শায়লা ও শিমুল।

এই দম্পতি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীতেই। পড়ালেখাও ওখানেই। দাম্পত্য জীবন ও কর্মজীবনের শুরু করেছি এ বছর। দুজনেই ঢাকায় থাকছি এ বছর থেকেই। এটা আমাদের জন্য জীবনের প্রথম বইমেলা দেখা। তাই শহীদ মিনার থেকে সোজা এখানে চলে এলাম। চমৎকার অভিজ্ঞতা হচ্ছে। চারিদিকে শুধু মানুষ আর বই। আমরা খুঁজছি ভাষা আন্দোলনের উপর লেখা বইগুলো।’

গালে বর্ণমালা আঁকা ছোট্ট নিশো এসেছে বইমেলায়। এতো মানুষের ভিড়ে জাপটে ধরেছে তার মাকে। কোলে থেকেই নিশো ঢাকাটাইমসকে বলল, ‘কত্তো মানুষ! আমি খেলবো আর বই কিনব।’

তরুণরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটছে। খুঁজছে পছন্দের বই। আহমেদ মাসুদ বন্ধুদের দল থেকে কথা বলায় আগ্রহী হলেন। তিনি বলেন, ‘প্রচুর পড়তে হবে। কিন্তু পড়ার অভ্যাসটা বেশ কয়েক বছর হলো চলেই গেছে। তাই সবাই প্রতিজ্ঞা নিয়েছে প্রত্যেকে অন্তত একটা বই হলেও কিনবো। তবে বিনোদনের জন্য নয়। বিনোদনের জন্য এখন সোশ্যাল মিডিয়া আছে। তাই মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ভাষা আন্দোলনের উপর বই কিনতে চাচ্ছি যাদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশটাকেও আরও ভালোভাবে জানতে পারি।’

শুধু বাঙ্গালিই নয় ভিনদেশিরাও এসেছেন বাঙালির প্রাণের এই বইমেলায়। সেজেছে বাঙালি সাজে। আকৃতিতে লম্বা হওয়ায় ভিড়ের মাঝে তাদের সহজেই চোখে পড়ে। কৌতুহলী চোখ আর মুখে লেগে আছে হাসি।

তবে কারও কারও কাছে আজকের এই মেলা অনেকটা যুদ্ধের মতোই মনে হচ্ছে। মানুষের মিছিলে হারিয়ে যাওয়ার ভয় অনেকের। তাই পরিবার-পরিজনকে নিবিড় চোখে রাখছেন প্রায় প্রত্যেকেই।

বইমেলায় এই দিনটাতেই বই বিক্রির ধুম পড়ে যায়। তবে সকালের নিরুত্তাপ বইমেলায় কিছুটা হতাশ হলেও যারা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন তাদের আশা সত্যিই পূরণ হলো। স্টলে স্টলে বিক্রয়কর্মীদের মুখে হাসি। রয়েছে ব্যস্ততার স্পষ্ট ছাপ। লেখক-প্রকাশকরাও অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত।

পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ উৎসবে রূপ নিয়েছে। বই কিনছে ফুড কোর্টে খাচ্ছে, বাঁশের বেঞ্চিতে কিংবা স্বাধীনতা চত্বরে লেকপাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে বইপ্রেমীরা।

(ঢাকাটাইমস/২১ফেব্রুয়ারি/টিএটি/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :