গরমে করোনার তীব্রতা কমবে!

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১০:৪১ | প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০২০, ১০:০১

গত বছরের মধ্য ডিসেম্বরে চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। এখন চীন ছাড়িয়ে এ ভাইরাস ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তার লাভ করছে। এখন পর্যন্ত যেসব অঞ্চলে করোনা বড় আকারে ছড়িয়েছে, সেসব শীতপ্রধান অঞ্চল এবং ঠান্ডা পরিবেশেই এ ভাইরাস বেশি ছড়িয়েছে। তাই করোনাভাইরাস গরমে থাকবে কি না, এ প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

করোনাভাইরাস যে ভাইরাস গোত্র থেকে এসেছে, তাকে বলা হয় ‘এনভেলাপড ভাইরাস’। এর অর্থ হলো, এ ভাইরাসের গায়ে তৈলাক্ত একধরনের প্রলেপ থাকে। ঠান্ডায় এই তৈলাক্ত প্রলেপ আরও শক্ত হয়ে ওঠে। ঠিক রাবারের মতো। মাংস রান্না করার পর ঠান্ডা হয়ে গেলে চর্বি যেমন হয়, এ ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়।

ভাইরাসের গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় করোনা সহজে মরে না। যখন গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকে এর আবরণ এক সময়ে গরম সহ্য করতে না পেরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অনেকটা আবওহাওয়ার উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়।

মানুষের শরীরের বাইরে ভাইরাসের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে জলবায়ু অবশ্যই একটি ভূমিকা রাখে। সার্স কোভিড-২ (করোনাভাইরাস) বিশ্বের যেসব অঞ্চলে এবার দ্রুত ছড়িয়েছে, তার সবই শীতপ্রধান এলাকা।’

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাস এবার সেসব অঞ্চলেই বেশি ছড়িয়েছে, যেসব অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা ৫ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার পারদ চড়লে কি নিষ্ক্রিয় হবে করোনা ভাইরাস? অনেক বিশেষজ্ঞ এ সম্পর্কে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। ভারতের মাইক্রো বায়োলজিস্টরা শুনিয়েছেন আশার বাণী। তাপমাত্রা বাড়লে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নাকি কমবে!

সারা বিশ্বের ৫০০টি এলাকার নমুনা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি এখনো অপ্রকাশিত বলে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে করোনাভাইরাসের বিস্তারে তাপমাত্রা, বাতাসের গতি ও তুলনামূলক আর্দ্রতার সম্পর্ক আছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। ‘উইল ওয়ার্ম ওয়েদার রিয়েলি কিল অব কভিড-১৯’ শিরোনামে বিবিসির প্রতিবেদনটিতে আরও একটি অপ্রকাশিত গবেষণার সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে গবেষকরা অনুমান করেছেন, বিশ্বের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের দেশগুলো করোনাভাইরাসের কারণে কম আক্রান্ত হবে।

ভাতের অ্যাসোসিয়েশন অব মাইক্রোবায়োলজিস্ট (এএমআই) প্রধান এবং প্রখ্যাত মাইক্রোবায়োলজিস্ট অধ্যাপক জে.এস. বির্দি জানিয়েছেন, "আশা এপ্রিলের শেষের দিকে, তাপমাত্রার বৃদ্ধিই রোধ করবে করোনা সংক্রমণ।"

বিশ্বজোড়া খ্যাতিসম্পন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের গবেষণা থেকে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শীতে বেশি ছিল। সাধারণত যেকোনও জীবাণু ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই বেশ কয়েকটি ভাইরোলজিস্ট জানিয়েছেন, এই বছরের জুনের শেষে কোভিড-১৯ এর প্রভাব অনেকটাই কমে যাবে।

করোনাভাইরাস সাধারণত গরম সহ্য করতে পারে না। অনেক ভাইরোলজিস্টরা এই তথ্যই দিয়েছেন। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ গবেষণা কেন্দ্রের দ্বারা পরিচালিত সমীক্ষা বলছে, শীতকালে রোগীদের শ্বাসনালী থেকে প্রাপ্ত তিন ধরণের করোনা ভাইরাস শীতের সময় অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সমীক্ষা আরও বলেছে, ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত থাকে ভাইরাসের প্রভাব। তবে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের বিশ্বাস, কিছু কোভিড-১৯ আবহাওয়ার সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বায়ুতেও সম্ভবত ছড়ায় এই ভাইরাস। লকডাউন অনেকটাই রোধ করতে সক্ষম হবে এই সংক্রমণ।

(ঢাকাটাইমস/২৯ মার্চ/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :