করোনার অবসাদে ঘুড়ি উড়ানো বিকেল

ঘুড়ি উড়ানো আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় খেলা। করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিকেল হলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিকাংশ ভবনের ছাদ এবং গ্রাম-গঞ্জের মাঠে-ময়দানে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বড়রাও ঘুড়ি উড়ানোয় মেতে উঠছেন। এমন উৎসবমুখর দৃশ্য দেখা যায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায়ও।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিকেল হলেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খোলা মাঠ, বাসার ছাদে ঘরবন্ধি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঘুড়ি উড়ানো উৎসব করে আসছে। প্রতিযোগিতা করছে ঘুড়ির সুতোয় কাটাকাটি। এ যেন করোনাকালে অবসাদ দূর করার এক বিনোদন।
উপজেলা পৌর শহরের স্থানীয় প্রভাতী কিন্ডারগাটেনের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র কিরণ জানায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। আগে নিয়মিত স্কুলে যেতাম। বিকেলে মাঠে খেলাধুলা করতাম। এখন তো আর সেটা সম্ভব নয়। সবসময় রুমে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগে না। এদিকে মা বাবা বাড়ি থেকে বের হতে দেন না। পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারণে এখন একটু আধটু বের হতে দেন। তাই একঘেয়েমি কাটাতে বিকেলে এখন বন্ধুরা মিলে ঘুড়ি উড়াই।’
এ বিষয়ে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ্ আলাম জানান, ঘুড়ি উড়ানো গ্রামাঞ্চলের একটি প্রাচীন উৎসব। তবে কালের প্রবাহে তা বিলুপ্তির পথে। কিন্তু করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঘরের চার দেয়ালে বন্ধি হয়ে পড়েছে। তাই বাসার ছাদ ও বাড়ির খোলা মাঠে মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা বিনোদন উপভোগ করছে। শুধু ওরা নয়, ওদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা বয়সের ঘরবন্ধি মানুষ।
প্রসঙ্গত, ঘুড়ি এক প্রকারের হাল্কা খেলনা, যা সুতা টেনে আকাশে উড়ানো হয়। সাধারণত পাতলা কাগজের সঙ্গে বাঁশের চিকন কঞ্চি লাগিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন নকশার এসব ঘুড়ি। নকশা অনুযায়ী এসব ঘুড়ির নাম হলো- ডাক ঘুড়ি, সাপ ঘুড়ি, মাছ ঘুড়ি, ব্যাঙঘুড়ি, মানুষ ঘুড়ি, ঘুড্ডি ঘুড়ি, ঈগল ঘুড়ি ও তারা ঘুড়ি।
ঢাকাটাইমস/৩জুন/পিএল
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
মন্তব্য করুন













































