হাড়ের ক্ষয় রোগে ভুগছেন দেশের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫৮ | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৬

মানুষের শরীরে নীরব ঘাতক অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ। এই রোগটি হাড়ভাঙ্গার পূর্ব পর্যন্ত উপসর্গবিহীন থাকে। ফলে রোগী এবং চিকিৎসকরাও শুরুর দিকে সচেতন থাকেন না। এতে করে দুর্ভোগ বাড়ে মানুষের। দিনে দিনে বাড়তে থাকে চিকিৎসা ব্যয়।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫০ বছরের বেশি বয়সের মানুষের প্রত্যেক ৩ জন নারীর মধ্যে একজন ও পাঁচজন পুরুষের একজন এই অস্টিওপোরোসিস রোগে ভুগছেন। আর দেশে প্রায় ৪০ লাখ নারী-পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে অন্যান্য বছরের মতো মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস। চিকিৎসকরা বলছেন, হাড় ক্ষয় রোগের কষ্টে ভোগা মানুষদের প্রতি সবারই দায়বোধ আছে। এজন্য রোগী, চিকিৎসক উভয়কেই সচেতন হতে হবে। যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হবে।

হাড় ক্ষয় রোগ নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকদের দাবি, দিনে দিনে রোগী বাড়লেও সেই তুলনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাড়ছে না। ফলে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেকে অপচিকিৎসারও শিকার হন। তাই সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে রিউমাটোলজি বিভাগ চালু করা সময়ের দাবি। সব সরকারি হাসপাতালে এ বিষয়ে দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। এতে সহজেই উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে।

দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘হাড় ভেঙে হুইল চেয়ারের জীবন-ই অস্টিওপোরোসিস’। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে নারীদের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর আর পুরুষদের গড় আয়ু প্রায় ৭০ বছর। দিনে দিনে গড় আয়ু বাড়ার আনন্দের উল্টোপিঠে উঁকি দিচ্ছে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত রোগীদের অল্প আঘাতে মেরুদণ্ডের হাড়, কুচকির হাড়, কবজির হাড়সহ অন্যান্য হাড় ভাঙাজনিত কারণে হুইল চেয়ার বা লাঠি নির্ভর জীবনযাপন করতে হয়, যা রোগীর জীবনধারণকে কষ্টকর করে তোলে। অন্যদিকে পরিবারের জন্য এসব রোগীরা বোঝা হয়ে দাঁড়ান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, দেশে মাত্র জন পঞ্চাশেক রিউমাটোলজিস্ট হাড় ক্ষয়সহ এসব রোগের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত। এসব বাত ব্যাথা রোগী মূল্যায়ন ও চিকিৎসায় এটা নগণ্য। দেশের কোন সরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ের কোনো বিভাগ চালু হয়নি। ফলে গোছানো চিকিৎসা সেবা এবং ভবিষ্যত রিউমাটোলজিস্ট তৈরির ব্যবস্থাও নেই। একসময় রোগীরা চিকিৎসা ব্যয় বহনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরও বলেন, ‘বাত ব্যথা রোগী এবং বয়স্ক মানুষগুলোর সার্বিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকারি হাসপাতালে দ্রুত রিউমাটোলজি বিভাগ চালু করতে হবে। কারণ স্বাস্থ্যখাতসহ দেশের অর্জিত অবস্থান হারাতে চাই না। অটুট রাখতে চাই মানুষের মুখের হাসি।

দিবসটি উপলক্ষে সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশন (আইওএফ), ন্যাশনাল অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনসহ (এনওএফ) শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করতে মহামারী করোনার মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করবে রিউমাটোলজি বিভাগ।

জানা গেছে, বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতার অংশ হিসাবে প্রচার পত্র, পোস্টার বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস রোগ নিয়ে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিএসএমএমইউর মেডিসিন ও রিউমাটোলজি বিভাগে এটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে হাড়ের ক্ষয়রোগ চিহ্নিতকরণ ও এই রোগের চিকিৎসা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কথা বলবেন।

ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/বিইউ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :