মানুষের জীবনের চাহিদা প্রতি পরতে পরতে পাল্টায়

লীনা পারভীন
| আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৩৪ | প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৩২

প্রতিটি মানুষের মধ্যেই প্রেম ও কাম দুটি বিষয় রয়েছে। নীরদচন্দ্র চৌধুরী তার বাঙালি জীবনে রমণী গ্রন্থে অত্যন্ত সুন্দরভাবেই এই ‘কাম’ ও ‘প্রেম’ বিষয়টির ওপর আলোচনা করেছেন। আমরা অনেকেই এই দুটি বিষয়কে একটি থেকে আরেকটি বিপরীত করে দেখার চেষ্টা করে থাকি কিন্তু আসলেই কি দুটি বিষয় তাই? কোনোভাবেই একটি থেকে আরেকটি ছোট বা বর্জনীয় বলা যায় না।

অনেকেই কামকে বাদ দিয়ে কেবল হৃদয়বৃত্তি নিয়ে আলোচনা করতে চান আবার কেউ কেউ প্রেমকে বাদ দিয়ে কামকে বুঝতে চান। এই দুটি দৃষ্টিভঙ্গিই ভুল। কোনো একটি দিয়ে মানুষকে বিবেচনা করতে গেলে সেখানে গলদ থাকার সম্ভাবনা থেকে যায়। নৈতিকতাবোধ দিয়ে এই বিষয়গুলোকে কখনো জাস্টিফাই করা যাবে না। তাই সে চেষ্টায় না যাওয়াই ভালো।

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আমাদের অনেকের অনেক রকম বিশ্লেষণ আছে। আমি সবসময় একজন ব্যক্তির কোনো কাজের উদ্দেশ্যকে দিয়ে বিবেচনা করতে পছন্দ করি। তিনি একজন লেখক আবার তিনি একজন ব্যক্তিও বটে। একজন লেখক হুমায়ূন আহমেদকে যখন বিবেচনা করবেন তখন কেবল সেটি দিয়েই তাকে মূল্যায়ন করতে হবে নচেত সেখানে গুরুচন্ডালী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল আবার ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদকে মূল্যায়ন করতে গেলে সেখানে তার সামগ্রিক দিক বিবেচনা করেই করতে হবে।

কেবল মানুষ হিসেবে নৈতিকতার মানদণ্ডে মাপতে গেলে সেখানেও ভুল হবেই। এই যে একজন হুমায়ূন আহমেদের জীবনে দুজন নারীর উপস্থিতি এই বিষয়টিকে চাইলে আপনি নানাভাবে বিশ্লেষণ করে তাকে যাচাই করতেই পারেন কিন্তু সেটিও নির্ভর করছে আপনার মধ্যে কোন মানদণ্ডটি প্রবল। গুলতেকিন বা শাওন কেউ কোনোদিন একজন হুমায়ূনকে চরিত্রহীন বা সুবিধাবাদী বা চরম পুরুষতান্ত্রিক বলে দাবি করেননি বা সেই ব্যক্তিটি তাদের জীবনকে নষ্ট করেছে বলেও দোষারোপ করেননি। মানুষের জীবনের চাহিদা প্রতি পরতে পরতে পাল্টায়। ঠিক তেমনি জীবনে কে কখন কাকে চায় বা চাইবে সেটিও পরিবর্তনশীল। এই যে মনের পরিবর্তন এটিকে আপনি কেবল আপনার সরল দৃষ্টিতে বিবেচনা করলে চলবে কেন?

প্রেম ও কামের উপস্থিতি সবার মাঝেই আছে। যারা অস্বীকার করতে চায় তারা মূর্খ। তারা গভীরতা দিয়ে দেখতে চায় না। কেবল অস্বীকারেই কি তাদের উপস্থিতিকে আপনি এড়াতে পারবেন? দমন করা আর অস্বীকার করা এক জিনিস নয়। আপনি কেন দমন করছেন সেটি আপনার বিবেচনা কিন্তু হুমায়ূন কেন দমন করেননি সেই ব্যাখ্যা দেবার আপনি বা আমি কে?

তাই একবাক্যে একজন হুমায়ূন আহমেদকে চরম সুবিধাবাদী, ভোগাবাদী বা নারীলিপ্সু বলা বা চরম পুরুষতান্ত্রিক চরিত্রের কেউ বলে ফেলাটা সঠিক ব্যাখ্যা নয়। বাস্তবে এই তর্ক অনেকটাই নির্ভর করে দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

আবারও বলি, কোনো একজন ব্যক্তি কখন কোন বয়সে কেন কোন কাজ করছেন সে ব্যাখ্যা দাঁড় করানো আরেকজনের জন্য কঠিন নয় কেবল অন্যায্যও। প্রেম ও কামের মাঝে নৈতিকতাকে টানতে যাওয়াটা সবসময় সঠিক বিশ্লেষণ হয় না। একটা ‘সামাজিক’ আর আরেকটা ‘বৃত্তিক’। কে কোনটাকে প্রাধান্য দিবে সেটি কেবল সেই ব্যক্তিই ঠিক করতে পারেন।

লেখক: কলামিস্ট

ঢাকাটাইমস/১৫নভেম্বর/এসকেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

পাঠকের অভিমত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :