অভিযোগের প্রতিবাদ জানালেন কেডিএস-এর সাবেক পরিচালক মুনির

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:২৫

চট্টগ্রামের শিল্প প্রতিষ্ঠান কেডিএস থেকে চাকরি ছাড়ার কারণে ২৮ মামলায় ১ বছর জেল খেটেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক মুনির হোসেন খান। শুধু তাই নয় চাকরি ছাড়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করছে কেডিএস গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কে.ওয়াই স্টিল।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরের প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলন করে মুনির হোসেন খান এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি জানান,কেডিএস গ্রুপের এমডি সেলিম রহমান ছিলেন তার বন্ধু। মূলত তার অনুরোধে মুনির হোসেন আমেরিকার স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে ২০০৭ সালে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কেডিএসে যোগদান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,‘কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে ইয়াছিন রহমান টিটুর হাতে লাঞ্চিত হয়ে চাকরি ছাড়ার ২০ মাস পর ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ৯ মাসে আমার ও পরিবারের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। যেখানে ২৬টি মামলাই ক্রিমিনাল, দুইটি সিভিল মিথ্যা মামলা। ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল কোম্পানির ডিএমডির মাধ্যমে এক অপ্রীতিকর এবং অন্যায় ঘটনার শিকার হয়ে চাকরি ছাড়ায় আমি তাদের এ রোষানলে পড়ি। তাদের টাকার জোরের কাছে আমি আজ বিপন্ন। আমার পরিবার মহাসংকটে। আমার অশীতিপর পিতাকেও তারা মামলায় জড়িয়েছেন। মামলায় জড়িয়েছেন আমার ছোট ভাই এবং স্ত্রীকেও।’

তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা প্রথম মামলা ছিল গাড়ি চুরি ও হত্যা চেষ্টা মামলা। মামলাটি হয় বায়েজিদ থানায়। যা একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। এ মামলায় আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ। ওই সময়ে আমি ছিলাম ঢাকার আমেরিকান স্কুলে। দ্বিতীয়ত মামলায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, এইচ আর কয়েল আমদানিতে আমি দুর্নীতি করেছি। গোপণ চুক্তির মাধ্যমে নাকি আমি এইচ আর কয়েল আমদানিতে কমিশন নিয়েছি। এভাবেই নাকি ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছি। যা হাস্যকর। আমার বিরুদ্ধে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাস্তবতা হল, আমার কাছে কোন অবৈধ টাকা নেই এবং এই পরিমাণ টাকা বা সম্পত্তি আমার নেই। আমার দীর্ঘ ১৭ বছর আমেরিকার থাকার সময় আমি অনেকবার বাড়ি কিনেছি এবং অনেকবার বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ও করেছি তার সকল প্রমাণাদিও আমার কাছে আছে। বর্তমান চিফ অপারেশন অফিসার (সিওও) জাবির হোসাইন বিভিন্ন জাল ও ভুয়া কাগজ তৈরি করে দেখাচ্ছেন, যেসব কোম্পানি থেকে পণ্য আমদানি করা হয়েছে আমি নাকি সেসব কোম্পানির এজেন্ট।

এবং বলা হচ্ছে, আমি কমিশন নিয়েছি। কিন্তু আমি কিভাবে কমিশন নিলাম বা কোন ব্যাংকের মাধ্যেমে কমিশন নিলাম তা কোথায় রাখলাম তার কোন উল্লেখ নেই।’

বেশি দামে কয়েল আমদানি বিষয়ে মুনির খান আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এইচআর কয়েল বেশি দামে আমদানি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আসল কথা হলো- আমি যে সময়ে এইচ আর কয়েল আমদানি করেছি সেসময় চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের আরো অনেক কোম্পানি এইচআর কয়েল আমদানি করেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সেই সময়ের তথ্য যাচাই করে দেখলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

বাবার (চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন খান) কষ্টের টাকায় কেনা ভবনে কেডিএসের নজর পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিত্য নতুন কৌশলে আমাকে ও আমার পরিবরাকে হয়রানি করছে কেডিএস। আমার বাবা চট্টগ্রাম বন্দরের একজন অবসরপ্রাপ্ত হারবার মাস্টার। চট্টগ্রামের বড়পুলে আমার বাবা একটি ভবন করেছেন, তাও আমি কে.ওয়াই স্টিলে যোগদানের আগে। যার নাম ইসাবেলা টাওয়ার। আমার বাবার সারাজীবনের উপার্জন দিয়ে গড়া সেই ইসাবেলা টাওয়ারের দিকেও নজর দিচ্ছে কেডিএস। তারা সম্প্রতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে আমার বাবা, ভাই এবং আমার কাছ থেকে কেউ যাতে কোন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি না কিনে। যা সম্পূর্ণ মানহানিকর এবং বেআইনি।’

মুনির হোসেন বলেন, ‘কিছু ভুয়া চু্ক্তিপত্র, আমার স্বাক্ষর এবং বিদেশি স্বনামধন্য কোম্পানির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আমার বিরুদ্ধে একে একে ২৮টি মামলা দিয়েছে। একটি মামলা থেকে জামিন হওয়ার আগেই আরেকটি মামলা দিয়ে আমাকে আটক রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘কেডিএস তার মাসিক বেতন, সন্তানদের লেখাপড়া, বিদেশ ভ্রমণ এবং ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। বেতন কোথাও দুই লাখ টাকা, আবার কোথাও তিন লাখ টাকা উল্লেখ করেছে। এর কোনোটাই সত্য নয়। অন্যদিকে তারা প্রশ্ন তুলেছে, আমার মেয়ে কিভাবে ব্যয়বহুল ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে লেখাপড়া করছে। অথচ আমার সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ কেডিএস কর্তৃপক্ষই বহন করেছে। এই সকল কিছুরই তথ্যপ্রমাণ আমার কাছে আছে।’

তিনি বলেন, আমদানিকৃত মালামাল বন্দর থেকে ক্লিয়ারিং করে কেডিএসেরই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে একই পণ্য খালাস করছে। দেশের প্রখ্যাত অডিট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবছর এ প্রতিষ্ঠানের অডিট হত। কোন ধরনের আর্থিক অনিয়ম ঘটে থাকলে অডিট আপত্তি আসত। তাছাড়া মাসিক অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কোম্পানির গ্রুপ অডিট এবং সিএফও তৈরি করতেন এবং তা তাদের কাছেও যেত। দীর্ঘ ১১ বছরে আমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ কখনও আসেনি। প্রতিবছর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গ্রুপের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার এ কাজটি করতেন। সবসময় কোম্পানির ইন্টারনাল অডিট রিপোর্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনেই ছিল। কখনো পরিচালক অথবা সিইও-এর অধীনে ছিল না। আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে ৩০০ কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানিকে ১৩০০ শত কোটি টাকার কোম্পানিতে পরিণত করেছি।’

মুনির হোসেন খান বলেন, অফিসের টাকায় বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ আনা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব। আমার চাকরির শর্ত অনুসারে আমার পরিবারের দেশে এবং দেশের বাইরে ভ্রমণের সমস্ত খরচ কোম্পানি বহন করবে। প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে কোনো কর্মকর্তার ইচ্ছেমত প্রতিষ্ঠানের টাকায় বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। কারণ বিদেশ যেতে গেলে আমাকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চেয়ারম্যানকে জানিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের সম্মতি বা ছুটি ছাড়া কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। এটা সত্য যে, এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে অনেকবার বিদেশ গিয়েছি। তারা যেখানে পাঠিয়েছেন সেখানেই গিয়েছি।

তিনি বলেন,‘আমি কেডিএস কর্তৃপক্ষের কাছে এই আকুতি জানাই, আমাকে যেন মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই দেন। আমি আমার পরিবার নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই।’

(ঢাকাটাইমস/১৯জানুয়ারি/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :