মুজাক্কির হত্যার বিচার দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নোয়াখালী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:১১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশ এবং মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের ত্রিমুখি সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় নিহত সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নোয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নিহতের বড় ভাই নূর উদ্দিন।

তিনি বলেন, নিহত মুজাক্কির সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অসুস্থ ও মুমূর্ষ রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি রোগীদের প্রয়োজনে এ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত ২৬ জনকে দিয়েছেন। করোনাকালীন নিজ এলাকার অসহায় ও গরীব মানুষের ঘরে ঘরে খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছন। ঈদে দুঃস্থ ও এতিমদের গোপনে সহযোগিতা করতেন।

নূর উদ্দিন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত শুক্রবার উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মুজাক্কির। এসময় আহত মুজাক্কির বাঁচার জন্য বার বার আকুতি জানালেও উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘসময় বাজারে পড়ে থাকার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুজাক্কির মারা যান বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বুরহান পড়ালেখার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করতেন। কিন্তু মুজাক্কির কোনো দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা মাওলানা নূরুল হুদা মো. নোয়াব আলী মাস্টার বলেন, ওইদিন ঘটনাস্থলে তিনি বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাই কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা দেখেননি। তবে এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান তিনি।

নিহতের মা মমতাজ বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার আদরের ছোট ছেলে মারা যাওয়ার পর আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে গতকাল (বুধবার) একটি ভিডিও দেখেছিলাম। কয়েকমাস আগের এই ভিডিওতে দেখি, একজন ব্যক্তি তাকে অকথ্যভাষায় গালাগালি করে মারধর করে। ওই হামলাকারী তাকে বলে ‘তোর কোনো বাবা আছে? আমি ওই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন নিহতের ভগ্নিপতি আবদুস সাত্তার।

আগেও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মুজাক্কির:

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর আগেও একবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মুজাক্কিরকে নির্যাতনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ভাইরাল। যে ভিডিওটি বর্তমানে সংবাদকর্মী ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের কাছে সংরক্ষিত আছে।

ওই ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, হাসান ইমাম রাসেল নামে কোম্পানিগঞ্জের এক ব্যক্তি বসুরহাট বাজারের একটি ইলেট্রিক দোকানে বসিয়ে রেখে সাংবাদিক মুজাক্কিরকে মারধর করেন। এ সময় মুজাক্কিরকে মারধর করতে করতে অকথ্যভাষায় গালমন্ধ করে হাসান ইমাম রাসেল।

মুজাক্কিরকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করে এ নির্যাতন করা হয় বলে আওয়ামী লীগের অনেকে দাবি করেছেন। অন্যদিকে মুজাক্কির হত্যাকান্ডের পর মিজানুর রহমান বাদলও তাকে তার কর্মী বলে দাবি করে আসছেন।

এ বিষয়ে জানতে হাসান ইমাম রাসেলের ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল কেটে দেন। তবে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেছেন, মুজাক্কির আমাদের সাথে একসাথে কাজ করতো, তখন যে মাঝে মাঝে আসতো, নোয়াখালীতে পড়াশোনা করতো, কারো প্ররোচনায় পড়ে সে আমার ফেসবুকে ফেক আইডি থেকে বাজে কমেন্ট করতো, তখন রনির দোকানে তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেনো এসব করছো। সে বললো বাদল ভাইয়ের বিরোধিতা করেন সেজন্য আমি এমন করছি, তখন রাগ করে তাকে বকাঝকা করছি। ৫ মিনিট পরই আবার তাকে বুকে টেনে নিয়েছি।

তিনি দাবি করেন মুজাক্কিরের মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, মুজাক্কিরকে নির্যাতনের ভিডিওটি ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে উপজেলার কথিত সাংবাদিক রাসেল (হাসান ইমাম রাসেল) মুজাক্কিরকে গালমন্ধ ও মারধর করছে। ওই দোকানটা বসুরহাট বাজারের অন্য একজন সাংবাদিকের। ওই সাংবাদিক আমাদের জানিয়েছেন মুজাক্কিরকে রাসেল মারধর করতে দেখে তিনি এসে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি দেখছেন। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

(ঢাকাটাইমস/২৫ফেব্রুয়ারি/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :