জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ‘মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার’

আমিনুল হক সাদী, কিশোরগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ০৩ মার্চ ২০২১, ১৬:৪৬

কিশোরগঞ্জে ‘মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার’ এক দশক যাবত জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। পাঠাগারটির মাধ্যমে একদিকে এলাকার খ্যাতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীসহ সব ধরনের মানুষের জ্ঞান আহরণের সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে।

জেলা সদরের নীলগঞ্জ-তাড়াইল সড়ক সংলগ্ন মহিনন্দ ইউনিয়নের গয়ালাপাড়ায় অবস্থিত এ পাঠাগার। জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ পুরাকীর্তির ছবি সংরক্ষণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পাঠাগারটি। ইতিহাস ঐতিহ্য সাহিত্য সংস্কৃতিতে অগ্রসর করতে ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে রুপ দিতে পাঠাগারটিকে ঢেলে সাজাতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদী। ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল ‘মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার’টির কার্যক্রম তার নিজ বাড়িতে শুরু হয়। নিজে বাইসাইকেল চালিয়ে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে ইতিহাস ঐতিহ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছেন তিনি। নিজেও বই লিখছেন ও নিজের লেখা বইসহ অন্যান্য লেখকদের বই পাঠে জনসাধারণকে আগ্রহী করে তুলছেন। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি স্থানান্তরিত করে নীলগঞ্জ-তাড়াইল সড়ক সংলগ্ন নিজস্ব জমিতে নতুন ঘর তৈরি করে পাঠাগারটিকে আরও সম্প্রসারণ করেছেন। এ পাঠাগারে রয়েছে সহস্রাধিক বই।

স্থানীয়, জাতীয় এবং বিশ্বখ্যতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের জীবনী, শিল্পী সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিবিদ, চলচ্চিত্রকার, চলচ্চিত্র শিল্পী, ইতিহাসবিদদের জীবনী, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, নাটক কাব্যগ্রন্থ, রবীন্দ্র রচনাবলী, নজরুল রচনাবলী, ধর্মীয় গ্রন্থ, গবেষনামূলক লেখা বই, কৃষি বিষয়ক, শিশুতোষ বইসহ সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যম এই গ্রন্থাগারটিকে করেছে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

পাঠাগারে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারও স্থাপন করা হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচাসহ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন লেখা ও ছবি রয়েছে।

এছাড়াও কিশোরগঞ্জের লেখকদের সংগৃহীত বই নিয়ে কিশোরগঞ্জ গ্যালারি, মহিনন্দের লেখকদের বইসহ মহিনন্দ গ্যালারি রয়েছে। পাঠাগারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জিত সনদ সম্মাননা ও পুরস্কারের ছবি নিয়ে একটি ছবির গ্যালারিও রয়েছে।

পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হোসেন জানান, প্রথমে বৃটিশ আমলের নায়েব আঃ মতিন নায়েব সাহেবের বাড়ি প্রাঙ্গণে পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেখানে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সমাজকর্মী নুরুল হক পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদীকে কতক জমি লিখে দেন। উক্ত জমিতেই এ পাঠাগারটির নতুন ঘর নির্মাণ করে তিনি পাঠাগারের কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, এ পাঠাগারে ছাত্রছাত্রীদের গ্রন্থাগারে এসে বই পড়ার আগ্রহ বেশ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের বই এবং শিশুতোষ বই পড়তে বেশি আগ্রহী বলে মনে হয়।

পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক হাবিবুল্লাহ ও শহীদ মিয়া বলেন, এ পাঠাগারে এসে অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। এখানে এসে মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সঠিক এবং বস্তনিষ্ঠ জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছি।

প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদী বলেন, ‘জ্ঞান অর্জনে বই পড়ার কোন বিকল্প নাই। আমার নানা আঃ মতিন নায়েব সাহেবকে জীবদ্দশায় দেখেছি নিয়মিত পত্রিকা ও বই কিনতেন এবং মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বই পত্রিকা পড়ে শুনাতেন। বই সংগ্রহ করাটা আমার একটি নেশায় পরিণত হয়ে যায়।’

মহিনন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আলী বলেন, ‘মহিনন্দ ইতিহাসঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারটি আমাদের মহিনন্দের গর্বই না জেলার গর্ব বটে। ইউনিয়ন পরিষদ ও দলের পক্ষ থেকে পাঠাগারটির সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

জেলা সরকারী গণগ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক আজিজুল হক বলেন, ‘এ পাঠাগারের কার্যক্রম দেখে অভিভূত হয়েছি। ২০২০ সালে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে এ পাঠাগারকে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা পদক দেওয়া হয়েছে। এ বছরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের অধীনে কিশোরগঞ্জের ১৪টি বেসরকারি গ্রন্থাগারের জন্য মুজিববর্ষ ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারের গ্যালারি করে দেওয়া হবে। সে তালিকায় এ পাঠাগারটিও রয়েছে।’

এদিকে, সরকারি-বেসরকারি অনুদান বা সম্মাননার স্বীকৃতি পেলে আরও প্রসারিত হবে পাঠাগারের কার্যক্রম এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

(ঢাকাটাইমস/৩মার্চ/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :