৩৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র নতুন আবাসন প্রস্তাব

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ মে ২০২১, ১৩:৩৬

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নগরীর বায়েজিদ লুপ রোড এলাকায় আবাসিক প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম। ‘বায়েজিদ হাউজিং’ নামে এই আবাসন প্রকল্পটির ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রায় ২০ একর জায়গায় এই আবাসন প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৭ কোটি ৮২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। যেখানে থাকছে ১৬৭টি আবাসিক প্লট এবং ১৮টি বাণিজ্যিক প্লট।

সিডিএ সূত্র জানায়, নগরীর আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ১২টি আবাসিক প্রকল্পে প্রায় ছয় হাজার ৬৬০টি প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করেছে, যেখানে ৬৪টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সিডিএ কর্তৃক সম্প্রতি ঢাকা ট্রাংক রোড হতে বায়েজিদ বোস্তামী রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়কের (লুপ রোড) পাশে সিডিএ’র জমিসহ মোট ১৯.৬৫ একর জমির উপর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় তিন, চার ও পাঁচ কাঠার আবাসিক প্লট থাকছে ১৬৭টি। যার মধ্যে তিন কাঠার আবাসিক প্লট ১২৬টি, চার কাঠার আবাসিক প্লট সাতটি, পাঁচ কাঠার আবাসিক প্লট ৩৪টি। এছাড়া থাকছে ১৮টি বাণিজ্যিক প্লট ও একটি ৩৬.৫ কাটার অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং দুইটি ইউটিলিটি ব্লক। এছাড়াও এ প্রকল্পে সবুজ বেষ্টনী, কৃত্রিম হ্রদ, খেলার মাঠ ইত্যাদি উন্নয়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে আরো জানা গেছে, এই প্রকল্পে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৭ কোটি ৮২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের জন্য সম্প্রতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে।

সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে আমরা বড় প্রজেক্টের পরিবর্তে ছোট ছোট প্রজেক্ট করার পরিকল্পনা নিয়েছি। যেহেতু ‘বায়েজিদ হাউজিং’ প্রকল্পটি ২০ একরের কম, তাই এটি দ্রুত অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ২০ একরের বেশি আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠাতে হয়। তবে এটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে।’

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সিডিএ’র আয় বৃদ্ধি হবে, অন্যদিকে নগরীর আবাসন সমস্যার সমাধান হবে বলেও জানান হাসান বিন শামস। এছাড়াও তিনি জানান, ক্রমান্বয়ে আরো নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যানে বলা আছে, প্রতি বছর ৫০ একর জায়গা প্ল্যান এরিয়া করতে হবে। কিন্তু বিগত ১০ বছরে সিডিএ কোনো আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেনি। এই আবাসন প্রকল্পে সিডিএ’র প্রায় তিন একরের মত জায়গা রয়েছে। বাকি জায়গা আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করব। অধিগ্রহণের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সঙেআগ আমাদের কথা হয়েছে। আমরা তাদের জায়গার প্ল্যান দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, সিডিএ’র সর্বশেষ আবাসন প্রকল্প হচ্ছে অনন্যা আবাসিক। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে এই প্রকল্পে ১ হাজার ৭৪৭টি প্লট বরাদ্দ দেয় সিডিএ। এর আগে, ২০১৪ সালে সলিমপুর আবাসিক এলাকায় (বর্ধিত অংশ) ৭৩টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৭ সালে কল্পোলক আবাসন প্রকল্পে (দ্বিতীয় পর্যায়) এক হাজার ৩৫৫টি প্লট এবং ২০০৬ সালে কল্পলোক প্রথম আবাসন প্রকল্পে ৪২৪টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/৭মে/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :