মিলিশিয়া বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ তালিকাভুক্ত করল জান্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ মে ২০২১, ১৬:৫১

মিয়ানমারের ছায়া সরকারের গঠিত সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনীকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে জান্তা সরকার। গত ১৬ এপ্রিল ক্ষমতাচ্যুত সংসদ সদস্যদের জোট চলমান সেনাশাসনের অবসান ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ‘ছায়া সরকার’ গঠন করে। এর পর ছায়া সরকার সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন মোকাবেলা করতে সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে।

ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়, গতকাল শনিবার মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা লুকিয়ে থাকা ক্ষমতাচ্যুত ডেপুটিদের নিয়ে গঠিত প্রতিরোধ সরকারকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। গত বুধবার এই ছায়া প্রতিরোধ সরকার সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়তে এবং সামরিক বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত জনগণের সুরক্ষায় নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনী ঘোষণা করে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার জাতীয় টেলিভিশনে ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’ এবং ‘পাইডাউংসু হলুটটাও রিপ্রেসেন্টেটিভে কমিটি বা সংসদকেও সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মিয়ানমারে গঠিত ছায়া সরকারে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) পাশাপাশি দেশটির ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর রাজনীতিকেরা রয়েছেন। আত্মগোপনে থেকে তারা এ ছায়া সরকার পরিচালনা করছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গ্রেপ্তার করে ক্ষমতা দখল করে সামরিক জান্তা। দেশটির সাধারণ জনগণ অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের গুলিতে এখন পর্যন্ত সাড়ে সাতশর অধিক মানুষ নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আটক রয়েছে প্রায় চার হাজার মানুষ।

ক্ষমতাচ্যুতদের জাতীয় ঐকমত্যের সরকার জানিয়েছে, গত নভেম্বর মাসের নির্বাচনে অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমক্রেসি যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, সেই সুত্রে পাওয়া কর্তৃত্বের ভিত্তিতে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স নামে তারা মিলিশিয়া গঠন করেছে। সংগঠকরা বলছেন, সেখানকার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সাংসদদের তৈরি ছায়া সরকার সামরিক জান্তার বিরোধীতা করার লক্ষ্যে একটি সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেছে।

ঐকমত্যের সরকার জানিয়েছে, সামরিক জান্তার হত্যা এবং অন্যান্য সহিংস কর্মকান্ড প্রতিরোধ করার জন্য এই বাহিনী গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

গত শুক্রবার ছায়া সরকারের উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খিন মা মা মিয়ো ঘোষণা করেন, ‘আমরা গণপ্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেছি। এই বাহিনী গঠনের প্রস্তুতি বহুদিন ধরেই চলছিল। অনেকটা সময় প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হয়েছে। জনশক্তি এবং অস্ত্রের চেয়েও প্রশিক্ষণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ । তিনি আরও জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ বিভাগও গঠন করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/০৯মে/কেআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :